প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ

মাঝে মাঝে যখন দেখি প্রযুক্তি নিয়ে কর্তাব্যাক্তিরা আলোচনা করছে, তখন বসে পড়ি মজা দেখতে। বাংলাদেশে প্রযুক্তির কর্নধারদের আলোচনা দেখার চেয়ে মজার কিছু নাই ! তারা দেশে ভালো মানের ফ্রীলান্সার এর কথা বলে, ভালো ইন্টারনেট কানেকশন এর কথা বলে, সারাদেশে ওয়াইফাই দেওয়ার কথা বলে, প্রযুক্তিতে উন্নত হওয়ার কথা বলে। কিন্তু আসল চিত্র দেখতে গেলে হতাশ লাগে !

শুরু করা যাক, বাংলাদেশের সরকারী সাইট গুলো দিয়ে ! ২০০৭-২০০৮ এ ডেভেলপ করা হয়েছে সাইট গুলো, এখনো সেইভাবেই চলছে ! না করেছে আপডেট, না করেছে অপটিমাইজ ! সিকিউরিটির যে কি হাল, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না, দুইদিনের হ্যাকারও হ্যাক করতে পারে ! এবং হচ্ছেও তাই ! তথ্যের অবস্থাও তাই ! অপ্রতুল এবং মান্ধাতা আমলের ! দেখে মনে হয় একটা সাইট না থাকলে হচ্ছিলো না, তাই বানায়ে রেখে দিছে ! আবার যখন সাইটের কাজ দেওয়া হয়, তখন কাজ পায়, যতো সব অগা মগা ! দেশের সেরা কয়েকজন প্রোগ্রামারকে চিনি যারা সরকারী সাইটের কাজ করেছেন আগে ! বহু আগে ! পরে নিজে থেকেই উপযাযক হয়ে যখন সাইট আপডেট এর কথা বলেছেন, কাজ গেছে অন্য কোন আবুল কোম্পানীর কাছে ! ২০১৪ সালে বসেও টেবিল দিয়ে সাইট বানায় !

বিটিসিএল কি দামে ব্যান্ডউইথ দিচ্ছে, আর আই এস পি গুলো কি দামে বিক্রি করছে, সেদিকে তাকালে চিত্রটা আরও পরিষ্কার হবে ! এ ব্যাপারে কোন আইন নেই যে আই এস পি গুলোকে নির্ধারিত দামের বেশিতে বিক্রি করা থেকে আটকানো যাবে ! ইণ্ট্যারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে দিয়ে যে ডাটা যাচ্ছে, সেটার হিসাব এক ! কিন্তু সব মেজর আই এস পি ইন্টারনাল কানেকশন এর জন্যও টাকা নিচ্ছে ! সব গুলো মেজর আই এস পির নিজস্ব ক্যাশ সার্ভার আছে দেশে। সেখান থেকে যখন কোন ফাইল ডাউনলোড হচ্ছে, সেটার টাকাও যাচ্ছে ভোক্তার কাছ থেকে ! কিন্তু সেটার জন্য কিছু তাদের বিটিসিএল কে কোন টাকা দিতে হয়না ! অথচ আমরা ঠিকই সেটার জন্য টাকা দিচ্ছি !

ওয়াইম্যাক্স অপারেটর গুলোকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিলো তিন বছরের মধ্যে সারা দেশে নেটওয়ার্ক বিস্তার করবে, এই শর্তে, দেশের ৫০% ও এখনো কাভার করতে পারেনাই, সেদিকে কারও কোন খেয়াল নাই !

প্রাইভেসী ভায়োলেশনও হচ্ছে সেই মাপের। গ্রামীনফোন কানেকশনকে মডেম হিসাবে পিসিতে লাগান ! কোন সাইট ব্রাউজ করার সময় সোর্স কোড চেক করেন ! দেখেন, সব ষ্ট্যাইলশিট মিনিফায়েড হয়ে গেছে, ইনলাইন হয়ে গেছে, সাথে এক্সট্রা একটা জাভাস্ক্রিপ্ট পেজ অ্যাড হয়েছে, bmi.js যার কাজ হলো পেজের ইমেজ গুলোকে কম্প্রেস করা। পেজকে অপটিমাইজ করা ! এটা ক্ষতির কিছু না, ক্ষতির ব্যাপার হলো, এর মানে গ্রামীনফোন আপনার ইন্টারনেট এর প্রতিটি অ্যাক্টিভিটির রেকর্ড রাখছে, বা চাইলে রাখতে পারে ! আপনি পর্ন দেখেন বা প্রেমিকার সাথে প্রেমালাপ করেন ফেসবুকে, সেটা চাইলেই মনিটর করতে পারবে ! সিরিয়াস লেভেল এর প্রাইভেসী ভায়োলেশন। অথচ এ নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নাই !

আন্তঃমন্ত্রনালয় যোগাযোগ ব্যবস্থা তো আরও বড় জোকস ! এক মন্ত্রনালয় থেকে অন্য মন্ত্রনালয়ে একোটা ফাইল সাইন হয়ে আসতে মাস পার হয়ে যায় ! ই-গভর্নেন্স এর কোন ইচ্ছাই এদের নাই । যতোবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এরাই বিরোধীতা করেছে ! তার পেছনে কারনও আছে ! সেটা নাহয় নাই বা বললাম !

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কোন সিচুয়েশন রুম নেই ! ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি বা বড় কোন ধরনের ইভেন্ট এর ক্ষেত্রে ইন্টার-ডিপার্টমেন্ট কমিউনিকেশন এর জণ্য এই ধরনের সিচুয়েশন রুম সব দেশেই আছে। আমি আমেরিকার মতো হাইটেক সিচুয়েশন রুমের কথা বলছি না ! একটা রুম যেখানে বসে প্রধানমন্ত্রী যে কোন ধরনের সিচুয়েশন এর আপডেট নিতে পারবেন, তথ্য সংগ্রহ করে সেটা অ্যানালাইসিস করে প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার ব্যবস্থা থাকবে, প্রয়োজনীয় মন্ত্রী বা ষ্ট্যাফরা থাকবেন যাদের সাথে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন, এবং সেটা সবার কাছে পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে ! এতে বড় ধরনের ইমার্জেন্সি বা ইভেন্ট এর ক্ষেত্রে কো-অর্ডিনেশন অনেক বেশি ভালো হয়, এবং দ্রুত হয় !

সকাল বেলা ঘুম ঘুম চোখে হয়তো বেশিই স্বপ্ন দেখছি, কিন্তু যা যা বললাম, সবাই করা সম্ভব, এই জণ্য বিশাল কর্মযজ্ঞের দরকার নেই, শুধু দরকার আইনের প্রয়োগ। প্রচুর তাকা পয়সার দরকার নেই, শুধু দরকার উদ্যোগ এর !

 

https://www.facebook.com/theoritro/posts/10203487510694938

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.