ভালোবাসার সাতকাহন – ১

লেখা শুরু করার আগেই বলে নেওয়া ভালো, এটা আমার একান্তই ব্যাক্তিগত মতামত। আমার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো থেকে পাওয়া শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা। এখানে কাউকে ব্যাক্তিগত ভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়নি। এই লেখাটি বা সিরিজটি জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে সবার জন্য ও সবাইকে নিয়েই লেখা। আমার সফল ও ব্যার্থ ভালোবাসার গল্প গুলো, কিছুটা সংশোধিত, পরিমার্জিত। Take it with a grain of salt if you would like, that’s entirely your choice. Happy Reading.

 

শ্রদ্ধেয় বড়ভাই মাশরুফ হোসেন একদা আমাকে “পাগল প্রেমিক ছোটভাই” বলেছিলেন, সংগত কারনেই বলেছিলেন। আমার জীবনের প্রেম ও প্রেমিকাদের ইতিহাস বড়ই রঙ্গিন, একইসাথে ভয়াবহও। ন্যাড়া নাকি একবার বেলতলায় যায়। আমার মাথায় বেল পড়ে ফেটেছে একাধিকবার, আমার বেল তলায় যাওয়ার শেষ হয়নি এখনো।

 

প্রেমে পড়ার সবচেয়ে বিরক্তিকর দিক হচ্ছে, প্রেম কাঁঠালের আঠার চেয়েও খারাপ। সুপার গ্লু যেমন একবার লেগে গেলে গেলো, টানলে ভেঙ্গে বের হয়ে আসবে। প্রেমের আঁঠা হচ্ছে চলিত বাংলায় চিটকা আঁঠা। খুলে আসার আগে টেনে ধরে থাকে সেই শক্তিতে, মাঝে আপনার মন, মেজাজ, পকেট এবং ক্ষেত্র বিশেষে গায়ের চামড়াও বিসর্জন হয় যায়।

 

প্রথমবার আঁঠা লেগেছিলো ক্লাস এইটে থাকতে। দেখেছিলাম তারে ইংলিশ প্রাইভেটে রুমের এক ধারে। আহা কি মায়া, আহা কি চেহারা। ক্লাস এইটের অপরিপক্ক আমি হটাৎ করেই খুব মনোযোগী হয়ে গেলাম প্রাইভেটে। ঝড় বৃষ্টি বাদল, যে মুসিবতই চলে আসুক, প্রাইভেট আমি পড়বোই, ক্লাসে আমি থাকবোই। তাকে দেখতাম অপলক চেয়ে। একদিন পড়া পারলাম না, স্যার ঝাড়ি দিলেন। দেখলাম, যার জন্য আমি উতলা, সে হাসে। নতুন একটা অনুভূতি হলো, জানলাম এর নাম প্রেমের জেদ। দেখায়ে দিতে হবে। বাংলা অংক বিজ্ঞান যাক গোল্লায়, ইংলিশে আমার ভালো হতেই হবে। জান প্রান দিয়ে ইংলিশ পড়তাম। স্যারের প্রাইভেট এ ভালো করতে শুরু করলাম। আমার এই নতুন ধনুক ভাঙ্গা পণ প্রকল্প গ্রহনের দুই সপ্তাহের মাথায় একদিন ক্লাসে গিয়ে দেখি সে নেই। মন আনচান করে, প্রেমিকা মোর গেলো কনে?

Continue reading

শেখ মুজিবুর রহমান – বঙ্গবন্ধুর জীবন আবহ

১৭ই মার্চ, ১৯২০ সালে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তার জন্ম। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।

১৯২৭ সালে সাত বছর বয়সে উনার প্রাতিষ্টানিক শিক্ষা জীবন শুরু।

১৯৩৪ সালে মাদারীপুর ইসলামিয়া হাইস্কুলে পড়ার সময় বেরীবেরি রোগে আক্রান্ত হন বঙ্গবন্ধু। অসুস্থতার কারনে ৩ বছর পড়াশোনা বন্ধ রেখে ১৯৩৭ এ আবার যোগদান করেন।

১৯৩৮ এ শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের সানিধ্যে আসেন, তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী গোপালপুরে একটি স্কুল পরিদর্শনে এলে। এ বছরেই বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসার সাথে ১৮ বছর বয়সে বিবাভ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৩৯ সালে সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করে প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৪২ সালে এন্ট্রাস পরীক্ষায় উত্তীর্ন হন এবং কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন।

১৯৪৪ সালে নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদেন কুষ্টিয়াতে এবং আনুষ্টানিকভাবে রাজনীতিতে পদার্পন করেন বঙ্গবন্ধু।

১৯৪৬ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু, বিনা প্রতিদ্বন্দিতায়। একই সাথে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহকারী নিযুক্ত হন তিনি। প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলীম লীগের পক্ষে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন বঙ্গবন্ধু।

১৯৪৭ সালে ইসলামিয়া কলেজ থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে বি.এ পাশ করেন বঙ্গবন্ধু।

১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ২৩ ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষনা করলে বঙ্গবন্ধু প্রতিবাদ করেন এবং তার প্রস্তাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ১১ই মার্চ সাধারন ধর্মঘট আহবান কালে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন। ১৫ই মার্চ মুক্তি পান কারাগার থেকে। ১১ ই সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য আবার গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু।

১৯৪৯ সালের ২১শে জানুয়ারী মুক্তি পান বঙ্গবন্ধু। ২৯শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের দাবী আদায়ের লক্ষে দেওয়া ধর্মঘটে সমর্থন দেওয়ার কারনে তাকে অযৌক্তিক ভাবে জরিমানা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০ শে এপ্রিল আবারো গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু। ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২৭ শে জুলাই বঙ্গবন্ধু জেল থেকে মুক্তি পান। এরপর তিনি সরাসরি জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। এ সময় বাংলায় দূর্ভিক্ষ শুরু হলে খাদ্যের দাবীতে তিনি আন্দোলন শুরু করেন।

১৯৫০ সালের ১ লা জানুয়ারী খাদ্য আন্দোলনের কারনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৯৫২ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারী থেকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে বঙ্গবন্ধু জেলে অনশন শুরু করেন। ২১ শে ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন রফিক, জব্বার, শফিক, সালাম, বরকত সহ অনেকে। জেলে বঙ্গবন্ধু টানা অনশন করতে থাকেন। ২৭ ফেব্রুয়ারী অসুস্থতার কারনে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

১৯৫৩ সালের ১৬ই নভেম্বর প্রাদেশিক আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৪ ডিসেম্বর সব বিরোধী দল একত্র হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন হয়।

১৯৫৪ সালের ১০ই মার্চ সাধারন নির্বাচনে ২৩৭ টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩ টি আসন লাভ করে এবং বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জ আসনে বিজয়ী হন। ২ এপ্রিল সদ্যগঠিত যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। ৩০ শে মে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা বাতিল করেন এবং দেশে ফেরা মাত্র ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু। ২৩ শে নম্ভেম্বর মুক্তি পেয়ে আবার জেল গেট থেকে গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু।

১৯৫৫ সালের ৫ই জুন পাকিস্তান গণপরিষদ এর সদস্য নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু। ১৭ই জুন পল্টন ময়দানের জনসভায় প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধুর কন্ঠে ভেসে আসে পুর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন এর দাবী। ২১শে অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্টিত হয় এবং সেখানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে মূল আদর্শ হিসাবে গ্রহন করে দলের নাম পরিবর্তন করা হয় “আওয়ামী লীগ” এবং বঙ্গবন্ধু পুনরায় সাধারন সম্পাদক এর দ্বায়িত্ব লাভ করেন।

১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীর উপর আক্রমন ও তার মৃত্যুতে ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারী করেন এবং ৫ দিনের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হতে থাকে বঙ্গবন্ধুর নামে।

১৯৫৯ সালের ৫ই অক্টোবর মুক্তি পান বঙ্গবন্ধু। পরবর্তী ২ বছর তাকে বার বার গ্রেপ্তার করা হয় এবং মুক্তি দেওয়া হয়। তার গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা বাহিনী নিয়মিত নজর রাখতো।

১৯৬২ সালের ২রা জুন সামরিক শাসনের অবসান হয়। ১৮ই জুন বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভ করেন।

১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারী আওয়ামী লীগকে নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। ১১ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ২৬শে জুলাই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সম্মিলিত বিরোধী দল কো-অপ গঠিত হয়।

১৯৬৫ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ১৪ দিন আগে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৯৬৬ সালের ১৮ই মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে ৬ দফা প্রস্তাব গৃহীত হয়। ৬ দফার দাবীতে দেশ ব্যাপী প্রচারনা চালানোর সময় তাকে ৩ মাসে মোট ৮ বার গ্রেপ্তার করা হয়।

১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে ৩৫ জন বাঙ্গালী সেনা ও সি এস পি অফিসারের বিরুদ্ধে ভারতের সাথে মিলে পাকিস্তানকে আলাদা করার অভিযোগে কুখ্যাত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে পাকিস্তান সরকার। ২৮ জানুয়ারী আদালতে নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে একটি লিখিত বিবৃতি দেন বঙ্গবন্ধু। তার মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এর দাবীতে দেশ বাপী শুরু হয় গণ অভ্যূথান। ছাত্র সমাজ ১১ দফা দাবী উপস্থাপন করে।

১৯৬৯ সালের ৩০ জানুয়ারী আন্দোলন ঠেকাতে প্যারোলে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করে পাকিস্তান সরকার, বঙ্গবন্ধু সেই প্রস্তাব ঘৃণা সহকারে প্রত্যাখ্যান করেন। ১৫ই ফেব্রুয়ারী ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে নির্মম ভাবে হত্যা করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। বিক্ষুদ্ধ জনতার ঢল নামে রাস্তায়, দূর্বার আন্দোলন শুরু হয়। ২২ ফেব্রুয়ারী প্রচন্ড আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার মামলা প্রত্যাহার করে। ২৩ ফেব্রুয়ারী রেসকোর্স ময়দানে ডাকসু ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিশাল এক সংবর্ধনা অনুষ্টান অনুষ্টিত হয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রথমবারের মতো “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করা হয় এদিন। ১০ই মার্চ পরিস্থিত বেগতিক দেখে আইয়ুব খান গোল টেবিল বৈঠিক আয়োজন করেন। বঙ্গবন্ধু তার ৬ দফাতে অটল থাকায় বৈঠক ব্যার্থ হয়। ২৫শে মার্চ ইয়াহিয়া খানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন আইয়ুব খান। সামরিক শাসন আবার শুরু হয়। ২৮ নভেম্বর রাজণৈতিক কর্মকান্ডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয় ইয়াহিয়া খান এবং সাধারন নির্বাচন করার প্রতিজ্ঞা করেন।

শেখ মুজিবুর রহমান
শেখ মুজিবুর রহমান

১৯৭০ এর ১লা জানুয়ারী রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয় এবং সাথে সাথেই বঙ্গবন্ধু ৬ দফার ওপর প্রচারণা শুরু করেন। ৪ জুন মতিঝিল এর ইডেন হোটেলে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত হয় আওয়ামী লীগ একক ভাবে নির্বাচনে যাবে। ৫ই জুন পাকিস্তান সরকার নির্বাচনের আসন বিন্যাস প্রকাশ করে। পূর্ব পাকিস্তানে প্রাদেশিক ৩১০ টি আসন ও জাতীয় পরিষদে ১৬৯ টি আসনে নির্বাচন হবে। ১৫ই আগষ্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করা হয়। ৭ ডিসেম্বর জাতীয় ও ১৭ই ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্টিত হবে। ৮ই অক্টোবর ১৯ টি রাজনৈতিক দলের প্রতীক বরাদ্ধ করা হয়, আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীক লাভ করে। ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু বেতার ও টেলিভিশনে ভাষন দেন। দেশবাসীর কাছে ৬ দফার পক্ষে ভোট চান তিনি। ১২ই নভেম্বর ভয়ংকর ঘুর্নিঝর ও জ্বলচ্ছাসে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচারণা থামিয়ে ত্রান কাজে নেমে পড়েন। পাকিস্তান সরকারের উদাসিনতা এবং অব্যাবস্থাপনার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ৭ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। ১৬৭ টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা পায় আওয়ামী লিগ। ১৭ই ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান থেকে ২৯৮টি আসন লাভ করে।

১৯৭১ এর ৩ জানুয়ারী আওয়ামী লীগের সকল নির্বাচিত সদস্য ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রনয়নের শপথ নেন। “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”, কবিগুরুর লেখা এই সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্টান শুরু হয়। এরপর পরিবেশিত হয় “জয় বাংলা, বাংলার জয়”। ১০ জানুয়ারী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন এবং বঙ্গবন্ধুর সাথে তিন দফা বৈঠক করেন। ফিরে যাওয়ার সময় তিনি জানান যে শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। ১৩ই ফেব্রুয়ারী এক সরকারী ঘোষনায় ইয়াহিয়া খান জানান ৩রা মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করা হয়েছে। ১লা মার্চ অধিবেশনকে সামনে রেখে হোতেল পূর্বানীতে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক হয়। সেদিনই হটাৎ করেই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আকস্মিক ভাবে জাতীয় অধিবেশন বাতিল ঘোষনা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। বিক্ষুদ্ধ জনতা রাস্তায় নেমে আসে, বঙ্গবন্ধু ২ ও ৩ মার্চ পুর্ব পাকিস্তানে হরতাল ঢাকেন। ২রা মার্চ হরতাল চলাকালে সন্ধ্যা থেকে পুরো ঢাকায় কারফিউ জারি করে সরকার। ৩ মার্চ কারফিউ ভেঙ্গে জনতা রাস্তায় নেমে আসে, সামরিক জান্তার গুলিতে সেদিন মারা যায় ৩ জন, আহত হয় ৬০ জনেরও বেশি। ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর কন্ঠে ভেসে আসে সেই ঐতিহাসিক ভাষন, “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। সারাদেশ জুড়ে শুরু হয় এক উত্তাল আন্দোলন। ১৬ই মার্চ ইয়াহিয়া খান জনতার বিক্ষোভমুখে ঢাকায় আসেন আবার। কালো পতাকা উড়িয়ে সেই আলোচনায় যোগদেন বঙ্গবন্ধু। ২৩শে মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ প্রতিরোধ দিবস ঘোষনা করে এবং সমস্ত সরকারী ও বেসরকারী ভবনে “বাংলাদেশের” পতাকা উত্তোলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৫ শে মার্চ শুরু হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের সেই কাল রাত্রি। ইয়াহিয়া খান দ্রুততার সাথ ঢাকা ত্যাগ করেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নামে জনতার ঢল। রাত্রে সাড়ে এগারোটায় শুরু হয় “অপারেশন সার্চ লাইট”। ইতিহাসের অন্যতম এই গনহত্যা চলাকালে গ্রেপ্তার করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। গ্রেপ্তারের আগে স্বাধীনতার ঘোষনাবার্তা চট্টগ্রামে ওয়্যারলেস এর মাধ্যমে পাঠান বঙ্গবন্ধু। আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর সেই স্বাধীনতা বানী প্রথম প্রচার করে। পরের দিন ২৯ শে মার্চ অষ্টম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে সেই বার্তা আবার প্রচার করেন। শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ।

১৭ই এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রীসভা গঠিত হয়, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহম্মদ বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করে মুজিবনগর এবং সেখান থেকেই স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালিত হবে। বঙ্গবন্ধুকে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রতি এবং তার অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্টপতি হিসাবে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। ২৫শে মে চালু হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। ৩ রা আগষ্ট পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় ১১ আগষ্ট সামরিক আদালতে শেখ মুজিবুর রহমান এর বিচার শুরু হবে। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সংগঠিত প্রবাসী বাঙ্গালীরা আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবি সন ম্যাকব্রাইডকে ইসলামাবাদ পাঠাত শেখ মুজিবুর রহমান এর আইনজীবি হিসাবে। পাকিস্তান সরকার বিদেশী আইনজীবি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ১১ই নভেম্বর বঙ্গবন্ধুকে ইয়াহিয়া খান ও ভুট্টোর সামনে উপস্থিত করা হয়। ইয়াহিয়া হ্যান্ডশেক করতে চাইলে বঙ্গবন্ধু অস্বীকার করেন, “ও হাতে বাঙ্গালীর রক্ত লেগে আছে, ও হাত আমি স্পর্শ করবো না”। ২রা ডিসেম্বর যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রায় অবসম্ভাবী বিজয়ের পথে, তখন ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুর কাছে সমঝোতা প্রস্তাব দেন। বঙ্গবন্ধু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

১৬ই ডিসেম্বর ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর ৩ লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আসে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। তখনো বাংলাদেশের স্বপ্নকার বসে আছেন করাচীর এক কারাগারে, জানেন না তার প্রিয় বাংলাদেশ এর মধ্যেই স্বাধীন হয়ে গেছে, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী লজ্জাজনক এক আত্নসম্পর্ন করেছে।

১৯৭২ এর ৩রা জানুয়ারী জুলফিকার আলী ভুট্টো ঘোষনা করেন বঙ্গবন্ধুকে বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়া হবে। ৮ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের বিশেষ বিমানে তাকে লন্ডন পাঠানো হয়। সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, “আমি আমার জনগনের কাছে ফিরে যেতে চাই”। ১০ই জানুয়ারী দিল্লী পৌছান বঙ্গবন্ধু, সেখানে তাকে স্বাগত জানান ভারতের রাষ্ট্রপ্রতি ভি.ভি গিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরাগান্ধী। ঐদিন বিকেলেই ভারতীয় বিমান বাহিনীদের বিশেষ বিমানে ধাকায় অবতরণ করেন বাংলাদেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। লাখো মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল নয়নে জাতির পিতা বলেন “আজ আমার জীবনের স্বাদ পূর্ন হয়েছে”। ১২ই জানুয়ারী সংসদীয় শাসন কাঠামো প্রবর্তনের মাধ্যমে নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দ্বায়িত্ব নেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১২ই মার্চ প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সেনা প্রত্যাহার করে ভারত। ১৬ই ডিসেম্বর নতুন সংবিধান কার্ষকর করা হয়।

১৯৭৩ এর ৭ই মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় স্বাধীন বাংলাদেশে। ৩০০টির মধ্যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ২৯২টি আসনে বিজয়ী হয়।

১৯৭৪ এর ২৩শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে প্রথম বাঙ্গালী হিসাবে বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭৫ এর ২৫ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু সংসদে চতুর্থ সংশোধনী বিল পাশ করেন, শুরু হয় সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা। ২৫শে ফেব্রুয়ারী ডিক্রি জারী করে বঙ্গবন্ধু সমস্ত রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামের নতুন একটি একক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্টা করেন।

১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট বিপথগামী এক সামরিক স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রে স্বপরিবারে শহীদ হন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্টাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

রোহিঙ্গা আপডেট – ২০১৯

রোহিঙ্গা ইস্যু ২০১৯

বাংলাদেশ এই মুহুর্তে এমন একটা পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছে, ডানে বামে চারেদিকেই বিপদ। কক্সবাজার টেকনাফ এরিয়াতে এই মুহুর্তে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা ওখানকার স্থানীয়দের চেয়ে বেশি। রোহিঙ্গারা আজকে একে মারে, কালকে ওকে খুন করে, পরশু আরেকজনকে গুম করে। সরকার না পারে বলতে, না পারে সইতে।

এই বাইঞ্চোদগুলাকে কিছুদিন আগেই মরার হাত থেকে বাঁচায়ে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করছে বাংলাদেশই। মায়ানমার আর্মি যখন এদের নিজেদের এলাকায় কচুকাটা করতেছিলো, তখন নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে এদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। যে সব এনজিও প্রজেক্ট আর ফান্ডিং এর অভাবে প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছিলো, সব রাতারাতি চাঙ্গা হয়ে গেছে, সব গিয়ে কুতুপালং ক্যাম্পে ভিড় করছে। খেয়ে দেয়ে থেকে হোটেল এর বিলই দিয়েছে দেড়শো কোটি টাকা।

বিশাল একটা বনভূমি ধ্বংস করে এদের আশ্রয় দিতে হয়েছে, মানবিক কারনেই। মানুষ মরছে সীমান্তের ওপাশে, বাঙ্গালীর মন মানেনি, সরকার থেমে থাকেনি, দুই বেলা খাইয়ে হলেও এদের স্থান দিয়েছে। নিজের বাড়ির উঠানে জায়গা দিয়েছে, নিজের ক্ষেতের জমিতে বসত বাড়ি করতে দিয়েছে। এখন স্থানীয় বাঙ্গালীরাই ওখানে সংখ্যালঘু। কিছু বললেই দা বঠি নিয়ে তেড়ে আসে, ফসল ফলানোর আগেই কেটে নিয়ে যাচ্ছে, গাছের ফল পাকার আগেই নেই !

আন্তর্জাতিক কমিউনিটি যে সাহায্য করবে বলেছিলো, খুব কমই শেষ পর্যন্ত নিজের কথা রেখেছে। তুরষ্ক মাঝে একবার খুব ফাঁপড় নিয়ে গেলো, সাহায্য পাঠিয়েছে, কিন্তু লং টার্ম হেল্প এর জন্য কিছুই করে নাই। ইন্দোনেশিয়াও চামের ওপর মেলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কাজের কাজ এখনো কিছু হয়না।

আর মায়ানমার? আহা, আং সাং সুচি, নোবেল পাওয়া মহৎ নারী ! সারাজীবন গৃহবন্দি থেকে নোবেল পেয়ে সরকারে আসার পর থেকে উনার ভাবই আলাদা। হটাৎ বড়লোক যেমন টং এর চা খেতে চায়না, সুচি ম্যাডামও এখন মানবাধিকার ভায়োলেশন দেখতে পায়না। পুরা একটা রাজ্য জুড়ে তার সেনাবাহিনী গনহত্যা চালিয়ে গেছে, উনি তখন হাড়ি পাতিল খেয়াল ব্যাস্ত ছিলেন, কিছুই বলেন না। তার দেশের সাংবাদিকদের সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললেই জেলে ঢুকানো হচ্ছে, উনি সেসব দেখেন না, চশমার পাওয়ার কম উনার !

দিনের শেষে চিপায় পড়েছে বাংলাদেশ। বিশাল সাইজের একটা জনগোষ্টি, যাদের সাপোর্ট করতে হচ্ছে নিজেদের অর্থনীতির ওপর ভরসা করে, যারা মুল কর্মক্ষন জনগোষ্টির বাইরে, ফলে তারা দেশের কোন কাজেও আসছে না, এবং সবশেষে অপরাধ এর পরিমান ক্রমাগত বাড়তেই আছে ঐ এলাকাতে। এ ভয়টা অনেক আগে থেকেই ছিলো, এতো বিপুল পরিমান রোহিঙ্গা ঐ এলাকায় আশ্রয় দিলে তারা একদিন পুরো এলাকাটাই নিজের বলে দাবী না করে বসে ! ভয়টা দিন যাচ্ছে আর বাড়ছে।

একদিন রোহিঙ্গা বলে মানূষকে মজা করে গালি দেওয়া হতো, কয়েকদিন পর ওই এলাকার মানুষকে বাঙ্গালী বলে গালি দেয় কিনা সেটাই এখন আলোচ্চ্য বিষয় !

ফেসবুক আইডি কিভাবে হ্যাক করবেন

ফেসবুক আইডি হ্যাক

আসেন ফেসবুক আইডি হ্যাক করা শিখি। ধাপে ধাপে আমরা শিখবো কিভাবে নানা উপায়ে ফেসবুক আইডি হ্যাক করা যায়।

উপায় নম্বর ১

টার্গেট এর সম্পর্কে জ্ঞান থাকা। বেশিরভাগ মানুষ ফেসবুকে পাসওয়ার্ড হিসাবে নিজের জন্মদিন বা নাম, সন্তানের জন্মদিন বা নাম, স্বামী/স্ত্রী/গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ড এর জন্মদিন অথবা নাম ব্যবহার করে। আপনার কাছে এই ইনফরমেশন যদি থাকে, তাহলেই আপনার হাতে বিশাল একটা চান্স আছে তাদের আইডি হ্যাক করার।

উপায় নম্বর ২

এ জগতে এমন কিছু গাধাও আছে, তারা তাদের ফোন নম্বর পাসওয়ার্ড হিসাবে ব্যবহার করে। আপনার যদি মনে হয় আপনার টার্গেট সেরকম একটা গাধা, ট্রাই করে দেখতে পারেন।

উপায় নম্বর ৩

একালের বহু প্রেমিক/প্রেমিকাই আছে, তাদের ভালোবাসার মানূষের কাছে তাদের ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখে, বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা নামক জিনিসপত্রের খাতিরে। তো আপনি যেটা করতে পারেন, আপনার টার্গেট এর প্রেমিক / প্রেমিকা হয়ে যেতে পারেন। ‘ জান তুমি আমাকে তোমার পাসওয়ার্ড দিবা না? এতোটুকু বিশ্বাস নাই আমার প্রতি? ‘ বলে পাসওয়ার্ড নিয়ে নিলেন। এরপর যখন ব্রেকাপ হবে, তখন তার মাথায় আগে চলবে আপনার গিফট ফেরত দেওয়ার কথা, আপনাকে নিয়ে ছ্যাকা খাওয়া ষ্ট্যাটাস দেওয়ার কথা। পাসওয়ার্ড চেঞ্জের কথা মাথায়ই আসবে না। কেল্লা ফতে।

উপায় নম্বর ৪

আপনার টার্গেট যদি আন-স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে, তাহলে আপনার হাতে একটা চান্স আছে। তাকে অতিরিক্ত বন্ধুসুলভ ভঙ্গিতে নিজের ফোন ধার দিন ফেসবুকে লগিন করার জন্য। সে যখন আপনার ফোনে ফেসবুক ব্যবহার করবে, তখন চান্সে নিজের ফোন কল দিয়ে বলুন জরুরী কল এসেছে, এরপর আর ফোন ফেরত দেবেন না। সে জিজ্ঞেস করলে বলবেন লগ-আউট করে দিয়েছেন। ব্যাস, হ্যাক।

উপায় নম্বর ৫

একটা ফিশিং সাইট তৈরী করুন। সেখানে নানা ধরনের অফার দিতে পারেন। উদাহরন,
– দেখুন আপনি কবে মরবেন
– আপনি কোন সেলিব্রিটির পাছার মতো দেখতে
– জেনে নিন আপনি ২০ বছর পরে কোন ঘাটের মরার মতো দেখতে হবেন
এরপর সেই লিংক পাঠান আপনার টার্গেটকে। সেখানে একটা পেজ রাখুন, দেখতে ঠিক ফেসবুকের লগিন পেজের মতো। আপনার গাধা টার্গেট সেটাকে ফেসবুকের লগিন পেজ ভেবে সেখানে তার ইউজারনেম পাসওয়ার্ড দেবে, এরপর সেটা আপনি হাতিয়ে নেবেন। ব্যাস, সুপার অসাম হ্যাকার !

উপায় নম্বর ৬

একটা জাভাস্ক্রিপ্ট কোড লিখুন, সেটা আপনার টার্গেট কে পাঠান, এই কোডের মাধ্যমে সে লক্ষ লক্ষ সাবক্রাইবার পেয়ে যাবে, এমন লোভনীয় অফার দিন। এরপর সে ব্রাউজার কনসোলে এই কোড দিয়ে যেই এন্টার দেবে, সেই কেস ক্লোজড। তার সব ব্রাউজার কুকি আপনার হাতে চলে আসবে। যেহেতু আপনি একজন সুপার স্মার্ট হ্যাকার, আপনি সেটা দিয়ে তার ফেসবুক আইডী হ্যাক করে ফেলবেন।

এবার হ্যাক করার পরে কি করবেন? যেহেতু আপনি এতো কষ্ট ও পরিশ্রম করে তার আইডি হ্যাক করেছেন, আপনারও কিছু পারিশ্রমিক পাওনা আছে। এই মর্মে তার আইডির যাকেই পাবেন, অশ্রব্য গালিগালাজ করুন, নোংরা নোংরা কথা বলুন। যদি বেশি স্মার্ট হন, তাহলে আরেকটু চালাকী করুন, তাদের কাছে টাকা ধার চান। চ্যাট লিষ্টে দেখুন আপনার টার্গেট মেয়েটার সাথে কোন ছেলেটা বেশী ফ্লার্ট করে। তার কাছে টাকা চান, ‘ভাইয়া আমি খুব বিপদে পড়েছি’ টাইপ আচরন করুন। ব্যাস, পোলা পটানোর ধান্দায় টাকা দিয়ে দেবে। এরকম আরো অনেক কিছু করার আছে, যেহেতু আপনি স্মার্ট, আপনি কিছু না কিছু ঠিকই বের করে নেবেন।

কথা হচ্ছে, আমি কেন ফেসবুক আইডি হ্যাক শেখাচ্ছি? কারন ঝিকে মেরে বৌকে শেখানো বলে একটা ব্যাপার আছে বাংলায়।

# ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন – ভেবে ব্যবহার করছেন তো?

# ফেসবুকে 

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন – ব্যবচ্ছেদ

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন

গত কয়েকদিনের ঘটনায় আমরা সামনের ক্ষতি গুলো চোখে দেখতে পাচ্ছি, প্রত্যক্ষ ইফেক্ট গুলো। পরোক্ষ ইফেক্ট গুলো দেখতে পাচ্ছি না, যেটা কয়েকগুন বেশি ভয়ংকর।

এই ছাত্রছাত্রীগুলো, যারা একটা সময়ে এই দেশের হাল ধরবে, তারা তাদের প্রতি হওয়া আক্রমনকে মনে রাখবে, তাদের প্রতি হওয়া অন্যায়কে মনে রাখবে। যে কারনেই হয়ে থাকুক, যার কারনেই হয়ে থাকুক, তারা যে এর শিকার হয়েছে, এটা দিবালোকের মত সত্য। ফলাফল, একটা পুরো জেনারেশনের ঘৃনা নিয়ে চলতে হবে আওয়ামী লীগকে।

তারচেয়েও বড় সমস্যা অন্য জায়গায়। আওয়ামী লীগ, একাত্তর, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, এই জিনিসগুলো একসাথে একই সুতোয় বাঁধা। আওয়ামী লীগের প্রতি এদের ক্ষোভ হতাশা এদের এই জিনিসগুলোর প্রতি বিরূপ করে তুলবে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবদান, বঙ্গবন্ধুর অবদান বার বার তাদের সামনে আসবে, আর একটা ক্ষোভ এর জায়গা থেকে সব গুলোর ওপর তাদের ক্ষোভ জমা শুরু হবে।

আমরা যেটা ভুলে যাচ্ছি, এই ছেলে মেয়ে গুলো যখন দেশের কান্ডারী হবে, তখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সচক্ষে দেখা সিংহভাগ মানুষ বেঁচে থাকবে না। এদের দেশের জন্মের গল্প শোনানোর কেউ থাকবে না, থাকবে শুধু বই আর ইতিহাসের পাতা। প্রতিবার যখন তারা আওয়ামী লীগ শব্দটার সামনে আসবে, তাদের চোখে এই দিনগুলো ভাসবে। তাদের মনে জমে থাকা ক্ষোভ, ঘৃনা সব বের হয়ে আসবে। যে জয় বাংলা স্লোগান এক সময় মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রেরণার জায়গা ছিলো, সেই জয় বাংলা স্লোগান শুনে তারা ভয় পাবে।

আর যারা এই সুযোগ নিয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিমুখ করতে চায়, তাদের খুব বেশি বেগ পেতে হবে না। মিথ্যা ইতিহাস রচনা করলে সেটা খন্ডন করার জন্য কেউ বেঁচে থাকবে না।

বাংলাদেশ এখন সংকটে আছে, কিন্তু আরো বড় সংকট হবে যেদিন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তুলবে ভবিষৎ প্রজন্ম, আর সেটার দায় নিতে হবে আমাদের।

ছবি ক্রেডিট – https://commons.wikimedia.org/wiki/File:Students_Blocked_Road_for_safe_Road_12.jpg

নিরাপদ সড়ক চাই – গুজব বনাম ফ্যাক্টস

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন

আজকে কি কি হয়েছে, আসুন পর্যালোচনা করি।

– রোজকার মতো শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিলো।
– দুপুরের নামাজ এর পরে তাদের কিছু লোক এসে বলে, তাদের কয়েকজনকে ধরে নিয়ে ধানমন্ডীতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছে, সেখানে ৪ জন মেয়ে আছে, যাদের ধর্ষন করা হচ্ছে ।
– শিক্ষার্থীরা এই খবর শুনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর অফিসের দিকে যেতে থাকে, ছাত্রলীগ তাদের বাধা দেয়।
– এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ তাদের ধাওয়া করে, এরপর সংঘর্ষ শুরু হয়।
– বিকেল ৪ টায় অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ ফেসবুকে লাইভে এসে কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান ঝিগাতলায় একজন ছাত্রের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে, দুইজন নিহত।
– এই খবর প্রকাশ হবার পর পরেই আরো অনেকগুলো লাইভ ব্রডকাষ্ট হয় ফেসবুকে, অনেকেই এসে নানা ধরনের খবর দিতে থাকে, এর মধ্যে ৪ জন ছাত্র খুন ও ৪ জন মেয়েকে ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষন করা হয়েছে, অন্যতম।
– আম্বালা ইনের সামনে হেলমেট পড়া একদল যুবকের সাথে শিক্ষার্থীদের আরেকদফা সংঘর্ষ হয়, তারা ছাত্রছাত্রীদের ওপর ইট পাটকেট ছুড়তে থাকে, তাদের মধ্যে একাধিকজন অস্ত্র বের করে গুলি চালায়।
– ষ্টার এর সামনে দুইটা বাইক জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, সেখানে পুলিশ থাকলেও তারা কোন ধরনের একশন নেয়নি।
– সন্ধ্যার আগে আগে আবার ছাত্রছাত্রীরা আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয় এর দিকে আগাতে থাকলে কয়েকজন আওয়ামী লীগ কর্মী কার্যালয় থেকে বের হয়ে এসে ছাত্রছাত্রীদের ভেতরে যাওয়ার আহবান জানান।
– ভেতরে ঘুরে এসে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সামনে ছাত্রছাত্রীরা জানায়, তারা গুজব শুনে উত্তেজিত হয়ে এগিয়ে আসছিলো। তারা কার্যালয় ঘুরে এসে দেখেছে গুজব মিথ্যা ছিলো।
– কোন একটা লেকে একজন ছাত্রীর লাশ পাওয়া গেছে বলে আরেকটা গুজব দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে।
– আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আহমেদ পলক ষ্ট্যাটাস দিয়েছেন ঝিগাতলাতে কোন সংঘর্ষই হয়নি ! উনি কই ছিলেন পুরো টাইম উনিই ভালো জানেন!

ফ্যাক্টসঃ

– এই মূহুর্তে সারাদেশে বা দেশের প্রধান জায়গাগুলোতে সব মোবাইল অপারেটর এর থ্রিজি ও ফোরজি সার্ভিস বন্ধ, টুজি সার্ভিস চলছে। সরকারী নির্দেশে এমন করা হয়েছে।
– বিএনপি নেতা আমীর খসরুর একটা অডিও ক্লিপ ফেসবুকে ভাইরাল, সেখানে সবাইকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামায়ে দিতে বলা হয়।
– সাধারন ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই আহত, ৯ জনের কথা বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া গেলেও হাসপাতাল সূত্রমতে ৩০-৪০ জন আহত।
– কোন ছাত্রের চোখ তুলে নেওয়া হয়নি, তবে একাধিক ছাত্র চোখে মারাত্নক ভাবে আঘাত পেয়েছেন।
– কোন ছাত্রীকে রেপ করা হয়নি, তবে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে, কোন ভ্যারিফায়েবল সোর্স নেই।
– তেজগাঁতে একজন শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বাসার ভেতর থেকে, আন্দোলনের সাথে এর কোন সম্পৃক্ততা নেই। [ সোর্স কমেন্টে ] – আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের এর ভাষ্য অনুযায়ী, সভানেত্রীর কার্যালয়ে যারা হামলা করেছিলো, তারা সাধারন ছাত্র ছাত্রী ছিলোনা, এবং সেই হামলায় ১৭ জন আহত হয়েছে।

যা যা বললাম, প্রতিটা কথার সোর্স কমেন্টে। এই কারনেই সারাদিন চুপ ছিলাম আর মনে মনে প্রার্থনা করছিলাম, এই গুজব গুলো যেন সত্য না হয়, নয়তো বাংলাদেশের পতনের শুরু এখানেই হবে।

এবার আসি আমার নিজের বক্তব্যে। ছাত্র ছাত্রীদের ওপর হামলা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, সাফ কথা। তারা একটা যৌক্তিক আন্দোলন করছিলো, তাদের আন্দোলন রাজনৈতিক না। একটা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সেভাবে হামলা কোন ভাবেই জাষ্টিফায়েবল না।

পুরো পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে ছাত্রলীগের কিছু ইউনিট একটু অতি-উৎসাহী হয়ে পড়েছে। আজকে সকালেও শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ছাত্রদের সাথে কথা বলেছেন, কোন হামলা হবে না কথা দিয়েছেন। গতকাল মিরপুরে হামলা হয়েছে। নতুন কমিটি আসার দুইদিনের মাথায় ছাত্রলীগের ক্রেডিবিলিটি শূণ্যে। আবার কেউ এটাও দাবী করতে পারবে না গতকাল এবং আজকে ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলার ছাত্রলীগ জড়িত ছিলো না, তারা জড়িত ছিলো, প্রমান আছে, ফুটেজ আছে।

এবার আসি গুজব স্পেশালিষ্টদের ব্যাপারে। একজন অভিনেত্রী, যেমনই হোক, তার একটা ফ্যানবেজ আছে। সে কিছু বললে মানুষের কানে যাবে। তার এভাবে লাইভে এসে গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে একটা জটিল পরিস্থিতিকে আরো সংঘাতময় বানানোর চেষ্টাটাকে কিভাবে সে জাষ্টিফাই করবে? তার ফোন এখন অফ, সাংবাদিকরা তার সাথে কোনভাবেই যোগাযোগ করতে পারছেন না।

সব মিলিয়ে আজকের দিনটা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা কালো দিন হয়ে থাকবে। একদল ছেলেমেয়ে, যারা চেয়েছিলো নিরাপদ রাস্তা, তাদের রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা এবং এরপর তাদের ওপর এই হামলা, কোনটার চেয়ে কোনটা বড় অপরাধ, সেটা যাচাই করতে যাওয়ার আর রুচি নেই।

[ আপডেট ] অনেকেই ধরে নিয়েছে আমি সাফাই গাইছি, একাধিকবার সেটা উল্লেখ করার পরেও যেহেতু হয়নি। এই হামলা বর্বরচিত এবং এর কোন সাফাই হতে পারে না। এই ছাত্রছাত্রীরা আগামী বাংলাদেশের ভবিষৎ, এরা যদি আজকে এই রকম একটা দেশে বড় হয় আর তাদের নিরাপত্তা যদি আমরা দিতে না পারি, সেটা রাস্তায় হোক আর ময়দানে হোক, লানত আমাদের ওপরে। লানত সরকারের ওপর, তারা তাদের ভবিষৎ প্রজন্মের রক্ষা করতে ব্যার্থ, তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ, তাদের দ্বায়িত্ব পালনে ব্যার্থ।

 

[ সোর্স ]