খাদক আমি – বিরিয়ানী

এর মধ্যে কোন লজ্জা নেই স্বীকার করতে, আমি অসম্ভব পরিমান খেতে পারি। সারিম ভাই আমার খাওয়া সম্পর্কে একবার মন্তব্য করেছিলেন, ” আনলিমিটেড ক্লাউড ষ্টোরেজ “। আমি জানি না কেন মানুষ খাওয়াটাকে এতো তীর্যক ভাবে দেখে, কিন্তু আমার খেতে ভালো লাগে। ভুঁড়ি সামনের দিকে জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে, কিন্তু আমার খেতে ভালো লাগে। প্রায়শই আমি এখানে ওখানে খাই। টি-বোন ষ্টেক থেকে শুরু করে রাস্তার ধারের চপ, সবই চলে।

 

আমার মধ্যে কোন নাক উঁচু স্বভাব নেই যে খেতে গেলে শুধু দামী যায়গায় খেতে হবে। খাবারের স্বাদ ভালো হলে, আর খাওয়ার পরিবেশ ভালো হলে, আমি যে কোন যায়গায় খেতে পারি। আমার বাসার এখানে একটা হোটেল আছে, সাধারন ভাতের হোটেল। তবে এরা আগে সকালে একটা বিরিয়ানী বানাতো। ২০ টাকা প্লেট। এক প্লেটে ৩ টুকরো মাংস থাকতো। সকালে ৭ টার দিকে বানাতো, ৯ টার মধ্যেই সব শেষ হয়ে যেতো। আমি সারা রাত কাজ করে সকাল পর্যন্ত জেগে থাকতাম শুধু এই বিরিয়ানী খাওয়ার জন্য। রাজশাহীর অনেক দামী দামী হোটেল এর বিরিয়ানীর চেয়ে ওদের বিরিয়ানীর স্বাদ ভালো ছিলো। ৩ টুকরো মাংসের বিরিয়ানী খেয়ে আস্ত মুরগীর ঠ্যাং দেওয়া বিরিয়ানীর চেয়ে বেশি স্বাদ পেতাম। দুঃখের বিষয় ওরা বিরিয়ানী বানানো বন্ধ করে দিয়েছে। চালের দাম বেড়ে গেছে, আর ২০ টাকার বেশি হলে কেউ খাবে না। অনেকে অবাক হতে পারে, ২০ টাকার বিরিয়ানী যদি ৩০ টাকা হয়, তাহলে সমস্যা কোথায়? যাদের স্বাদের দরকার, তারা ১০ টাকা বেশি দিতেই পারে।

সমস্যা হলো, ওদের বেশিরভাগ কাষ্টোমারই ছিলো সমাজের নিচের দিকের মানুষগুলো। রিক্সাওয়ালা থেকে শূরু করে গার্মেন্টস শ্রমিক। এবং তাদের জন্য ১০ টাকা অনেক বড় একটা ব্যাপার। সে কারনেই তারা দাম বাড়াতে চায়নি। পরিমানও কমাতে চায়নি। একই দামে কম বিরিয়ানী দেওয়াটা খেটে খাওয়া এই সব মানূষের সাথে বেঈমানী করা হবে। খেটে খাওয়া এইসব মানূষ দামী রেষ্টুরেন্ট এর দামী খাবার কিনে খেতে পারে না। এরা একটু স্বাদের জন্য ২০ টাকা দামের এই বিরিয়ানী খায়। জানিনা এই মানুষগুলোর জন্য ভালোবাসা থেকে কিংবা বিরিয়ানী আসলেই ভালো ছিলো, এই বিরিয়ানীর স্বাদ আমি কখনো ভুলবো না।

 

এখন কথা হলো, এতো বড় লেখার অবতারণার কারন কি? কারন হলো, আজকে আমার এতোটাই খেতে ইচ্ছে করছিলো, আমি অর্ডার দিয়ে ১০ প্যাকেট বিরিয়ানী বানিয়ে নিলাম। আমি ধারনা করেছিলাম পার প্যাকেটে এক প্লেট করে বিরিয়ানী থাকবে। বাসায় এনে দেখি পার প্যাকেটে যা আছে, তাতে আমার দুইবেলা খাওয়া হবে। দাম? আমি দামটা মেনশন করছি না, কিন্তু মিডিয়াম কোয়ালিটির কোন রেষ্টুরেন্টে এই দামে এক প্লেট বিরিয়ানী পাওয়া যাবে না।

যদিও নিয়ে আসার সময় প্যাকেট ভেঙ্গে একটার কিছুটা বিরিয়ানী নষ্ট হয়েছে, তাও সাড়ে নয় প্যাকেট রয়েছে। ফ্রীজে রেখে দিয়েছি। যখন খেতে ইচ্ছে করবে, একটা করে প্যাকেট বের করে গরম করে খাবো।

2 Comments

  1. এই এক খাওয়ার জন্যেই এই জীবনের যত্ত ছোটাছুটি। 🙂

    যাই হোক!
    খেতে ভালো লাগে
    তাই খাওয়া হয়,
    তবে খাওয়াতেই যেনো
    না ঘটে জীবন সংশয়।

    জীবনের ছুটে চলা
    খাওয়া-দাওয়ার ষোলকলা
    সবেতেই সর্বময়
    ক্ষিধে লাগে তাই খেতে হয়।
    তবে খাওয়াতেই যেনো
    না ঘটে জীবন সংশয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.