রোহিঙ্গা আপডেট – ২০১৯

বাংলাদেশ এই মুহুর্তে এমন একটা পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছে, ডানে বামে চারেদিকেই বিপদ। কক্সবাজার টেকনাফ এরিয়াতে এই মুহুর্তে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা ওখানকার স্থানীয়দের চেয়ে বেশি। রোহিঙ্গারা আজকে একে মারে, কালকে ওকে খুন করে, পরশু আরেকজনকে গুম করে। সরকার না পারে বলতে, না পারে সইতে।

এই বাইঞ্চোদগুলাকে কিছুদিন আগেই মরার হাত থেকে বাঁচায়ে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করছে বাংলাদেশই। মায়ানমার আর্মি যখন এদের নিজেদের এলাকায় কচুকাটা করতেছিলো, তখন নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে এদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। যে সব এনজিও প্রজেক্ট আর ফান্ডিং এর অভাবে প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছিলো, সব রাতারাতি চাঙ্গা হয়ে গেছে, সব গিয়ে কুতুপালং ক্যাম্পে ভিড় করছে। খেয়ে দেয়ে থেকে হোটেল এর বিলই দিয়েছে দেড়শো কোটি টাকা।

বিশাল একটা বনভূমি ধ্বংস করে এদের আশ্রয় দিতে হয়েছে, মানবিক কারনেই। মানুষ মরছে সীমান্তের ওপাশে, বাঙ্গালীর মন মানেনি, সরকার থেমে থাকেনি, দুই বেলা খাইয়ে হলেও এদের স্থান দিয়েছে। নিজের বাড়ির উঠানে জায়গা দিয়েছে, নিজের ক্ষেতের জমিতে বসত বাড়ি করতে দিয়েছে। এখন স্থানীয় বাঙ্গালীরাই ওখানে সংখ্যালঘু। কিছু বললেই দা বঠি নিয়ে তেড়ে আসে, ফসল ফলানোর আগেই কেটে নিয়ে যাচ্ছে, গাছের ফল পাকার আগেই নেই !

আন্তর্জাতিক কমিউনিটি যে সাহায্য করবে বলেছিলো, খুব কমই শেষ পর্যন্ত নিজের কথা রেখেছে। তুরষ্ক মাঝে একবার খুব ফাঁপড় নিয়ে গেলো, সাহায্য পাঠিয়েছে, কিন্তু লং টার্ম হেল্প এর জন্য কিছুই করে নাই। ইন্দোনেশিয়াও চামের ওপর মেলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কাজের কাজ এখনো কিছু হয়না।

আর মায়ানমার? আহা, আং সাং সুচি, নোবেল পাওয়া মহৎ নারী ! সারাজীবন গৃহবন্দি থেকে নোবেল পেয়ে সরকারে আসার পর থেকে উনার ভাবই আলাদা। হটাৎ বড়লোক যেমন টং এর চা খেতে চায়না, সুচি ম্যাডামও এখন মানবাধিকার ভায়োলেশন দেখতে পায়না। পুরা একটা রাজ্য জুড়ে তার সেনাবাহিনী গনহত্যা চালিয়ে গেছে, উনি তখন হাড়ি পাতিল খেয়াল ব্যাস্ত ছিলেন, কিছুই বলেন না। তার দেশের সাংবাদিকদের সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললেই জেলে ঢুকানো হচ্ছে, উনি সেসব দেখেন না, চশমার পাওয়ার কম উনার !

দিনের শেষে চিপায় পড়েছে বাংলাদেশ। বিশাল সাইজের একটা জনগোষ্টি, যাদের সাপোর্ট করতে হচ্ছে নিজেদের অর্থনীতির ওপর ভরসা করে, যারা মুল কর্মক্ষন জনগোষ্টির বাইরে, ফলে তারা দেশের কোন কাজেও আসছে না, এবং সবশেষে অপরাধ এর পরিমান ক্রমাগত বাড়তেই আছে ঐ এলাকাতে। এ ভয়টা অনেক আগে থেকেই ছিলো, এতো বিপুল পরিমান রোহিঙ্গা ঐ এলাকায় আশ্রয় দিলে তারা একদিন পুরো এলাকাটাই নিজের বলে দাবী না করে বসে ! ভয়টা দিন যাচ্ছে আর বাড়ছে।

একদিন রোহিঙ্গা বলে মানূষকে মজা করে গালি দেওয়া হতো, কয়েকদিন পর ওই এলাকার মানুষকে বাঙ্গালী বলে গালি দেয় কিনা সেটাই এখন আলোচ্চ্য বিষয় !

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.