ইমেজ অপটিমাইজেশন এবং সার্ভিং

ছবি ছাড়া কোন ওয়েব পেজ দেখেছেন? দেখতেই পারেন, তবে ইমেজ ছাড়া ওয়েবপেজ আজকাল কল্পনা করা একটু কষ্টকর। ইমেজ এর চেয়ে ভাল ইন্টার‍্যাকশন মিডিয়াম আজও আবিষ্কার হয়নি। একটা ছবি কয়েক হাজার শব্দ বলে দিতে পারে এক মূহূর্তেই। একটা ছবি কখনো বলে দেয় জীবনের অনেক না জানা গল্প।

যাউক গা, লেখক স্বত্তাটা আবার জাইগা উঠতাছিলো। ঐটারে মাটি চাপা দিয়ে কামের কথা কই ! আপনেরা কেউ আজাইরা এই পোষ্ট তো পড়বেন না, কামের জিনিস জানার লাইগ্যাই পড়বেন।

তো সব দিয়ে কাজের কথায় আসি। আপনি কি অমানুষ? মায়া দয়া নাই মনে? একটা ওয়েবপেজে একগাদা ইমেজ দিয়ে রাখছেন, তাও আবার ইয়া বড় সাইজের, কেমনে পারলেন এমন একটা নৃশংস কাজ করতে? মনে এট্টূও মায়া দয়া নাই? দেশে থ্রিজি আসছে বইলা কি আপনি ভাবছেন সব মাফ? কি মনে করছেন নিজেরে? যে দামে আর যে ষ্টাইলে থ্রিজি আসছে, তাতে আপনার সাইট যে মাইন্যকার চিপায় পড়ে ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাঁচি করতেছে, বুঝতেছেন?

আমি দয়ালু মানুষ, ইউজারদের কষ্ট সইতে পারিনা। তাই আপনারে অমানুষ থেকে মানুষ বানানোর কাজটা আমিই নিলাম। আসেন, কাজে নামি !

কয়টা ইমেজ দিছেন? 

তিরিং বিড়িং ছাইড়া, সোজা কথা বলেন, কয়টা ইমেজ দিছেন? ইমেজ ব্যবহারের সময়, একটা জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, যেটুকু দরকার, সেটুকুই করতে হবে। অতিরিক্ত ইমেজ শুধু সমস্যা নয়, মহা সমস্যা। খেয়াল রাখতে হবে,

  • অনেককে দেখা যায়, বাহারী ফন্টে অনেকে লেখা ফটোশপে ইমেজ আকারে বানিয়ে পেজে দিয়ে থাকে। এমনটা করার কোন মানে নেই, ফন্ট ফেস এর যুগে আপনি চাইলেই সেই ফন্টটি আপনার সাইটে ব্যবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সুবিধে হলো একই ফন্টের নানা লেখা একবার ফন্ট লোড করেই দেখাতে পারবেন। সে জন্য আলাদা আলাদা ইমেজের প্রয়োজন নেই।
  • অনেক সময় আইকন এর জন্য আমরা পিচ্চি পিচ্চি একাধিক ইমেজ ব্যবহার করি। করবেন না। আইকন এর দরকার হলে, fontawesome অথবা icomoon.io এ চলে যান। ফন্ট মাধ্যমে আইকন ব্যবহারের মজাই আলাদা। কেন, সেটা অন্য একদিন ব্যাখা করবো। তবে আমার ধারনা ভাল করে এগুলো দেখলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন।
  • অনেকে গ্রাডিয়েন্ট এর জন্য ইমেজ ব্যবহার করেন। কি দরকার? আপনি ষ্ট্যাইলশিট এর মাধ্যমেই গ্রাডিয়েন্ট তৈরী করতে পারবেন। বরং অনেক ভালো ভাবে। বিশ্বাস না হলে নিজেই চেক করে দেখুন, পরে এসে না হয় আমাকে এক কাপ চা খাইয়ে যাবেন।

কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে?

ওপরে দেখতে পাচ্ছেন হয়তো, যাচ্ছেতাই বাংলা ব্যবহার করেছি। এখ শুদ্ধ চলত বাংলায় ফিরে যাচ্ছি। ওয়েব পেজে ইমেজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক গুলো ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। তবে কি কি খেয়াল রাখতে হবে, জানার আগে আমাদের জানতে হবে, কেন খেয়াল রাখতে হবে।

আপনি হয়তো জানেন, কিংবা জানেন না, গুগল তার সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাংকিং এ যেসব ওয়েবসাইট দ্রুত লোড হয়, তাদের বেশি অগ্রাধীকার দেয়। অর্থাৎ, সব দিক দিয়ে আপনার সাইট নানা গুনে গুনান্বিত হওয়ার পরেও সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাংকিয়ে পেছনে পরে যেতে পারেন, আপনার সাধারন কিছু ভুলের জন্য।

এছাড়া, অপেক্ষা করতে কারই ভালো লাগে না। আপনার ইমেজ ভর্তি পেজ ওপেন করতে যদি ইউজার এর বেশী সময় লাগে, তা থেকে বিরক্তি সৃষ্টি হয়। ফলাফল, হয়তো সে আর কখনোই আপনার সাইটে ঢুকবে না। আর বাস্তবিক অর্থে, আপনি কখনোই চাইবেন না আপনার ভিজিটর কমে যাক।

আরও কিছু বিষয় আছে। যেগুলো আলোচনা করতে গেলে মহাকাব্য হয়ে যাবে, তার মধ্যে আবার কিছু আমি নিজেই ভালো মতো বুঝিনা। তাই সেসব থাক। এখন দেখা যাক কি কি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

  • প্রতিটি ইমেজের জন্য সার্ভাররে আলাদা আলাদা রিকোয়েষ্ট পাঠানো হয়। বেশি রিকোয়েষ্ট, বেশি চাপ সার্ভারের ওপর, বেশী লোডিং টাইম। এটা মাথায় রাখতে হবে।
  • সাইটে কখনোই র’ইমেজ ব্যবহার করবেন না। ক্যামেরা দিয়ে তুলেই বা ফটোশপ থেকে বানিয়েই সেটা আপলোড করতে যাবেন না। কেন?

উদাহরন স্বরুপ, আপনাকে দেখানো যেতে পারে, দুইটি ছবির তুলনা। প্রথম ছবিটি, র ইমেজ, প্রসেসিং করেই আপলোড করা হয়েছিলো। যার কারনে ছবিটির সাইজ প্রায় দেড় মেগাবাইট, ভালো মাপের সমস্যা।

র’ইমেজঃ https://dl.dropboxusercontent.com/u/72669879/ioritro.com/bg1.png

এবার আসি, আমি সেই একই ছবিটিকে কমপ্রেস করলাম, অপটিমাইজ করলাম, কোয়ালিটিতে যা পরিবর্তন হবে, টা খুব সূক্ষ চোখ ছাড়া ধরা মুশকিল।

অপটিমাইজড ইমেজঃ https://dl.dropboxusercontent.com/u/72669879/ioritro.com/bg1%20%281%29.png

সুপার অপটিমাইজড ইমেজঃ https://dl.dropboxusercontent.com/u/72669879/ioritro.com/v8IeIz6.jpg

অপটিমাইজড ভার্সন এর সাইজ মাত্র ৩৬৬ কিলোবাইট। প্রায় ১২০০ কিলোবাইট কম। অবাক কান্ড? না, সামান্য সতর্কতা। ইমেজ কিভাবে অপটিমাইজ করলাম, সেটা নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনায় আসবো। আর সুপার অপটিমাইজড ভার্সনটি দেখুন, এটি জেপিজি ফরম্যাটে এবং মাত্র ৭৯ কিলোবাইট ! নিজেই ভাবুন, কোন ইমেজটি ব্যবহার করবেন !

  • সি ডি এন ( কনটেন্ট ডেলিভারী নেটওয়ার্ক ) ব্যবহার করাটা বেশ জরুরী একটা বিষয় // অবশ্যই যদি আপনি দৈনিক কয়েক হাজার ভিজিটর আশা করেন।

 

সি ডি এন মূলত একটা ডিষ্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক,

যেখানে ষ্ট্যাটিক ফাইল গুলো ষ্টোর এবং সার্ভ করা হয়। ব্যাপারটা আসলে কি এবং কেমন সেটা নিয়ে ভবিষৎ এ লেখার ইচ্ছে আছে। আপাতত শর্ট কাতে বুঝিয়ে দেই। থিওরী না বুঝিয়ে আপনাকে প্রাক্টিক্যালী বুঝাই।

ধরুন, আপনি একটা শেয়ার্ড হোষ্টিং ব্যবহার করেন। আপনার সাইটে দৈনিক ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ভিজিটর আসে। এখন এই পরিমান লোড আপনার শেয়ার্ড হোষ্টিং নিতে পারলেও, সার্ভিস এর বেহাল অবস্থা হবে, এটা না বললেও চলবে ( সব শেয়ার্ড হোষ্টিং না ), কেন? এই কেন এর উত্তরটা সিম্পল, আপনার সাইটের প্রতিটা ফাইলের জন্য আলাদা আলাদা রিকোয়েষ্ট যায় সার্ভারে, সেখানে এবং দৈনিক মোট ভিজিটর এর সংখ্যা দিয়ে গুন করুন। বিশাল ব্যাপার। যদিও প্রডাকশন লেভেল এর সার্ভারের জন্য সেটা ব্যাপার না। কিন্তু যখন আপনি শেয়ার্ড হোষ্টিং এ আছেন, তখন একই সার্ভারে হিসাব নেই ঠিক কতো সাইট রান করছে, ফলে সার্ভিস এর মান খারাপ হতে থাকে। আবার, আপনার সার্ভার যদি আমেরিকাতে অবস্থিত হয়, তবে একই ইন্টারনেট স্পিড নিয়ে একজন আমেরিকান ইউজার একজন রাশিয়ান ইউজার এর চেয়ে আপনার সাইট বেশি ফাষ্ট ব্রাউজ করতে পারবে। প্রশ্ন হতে পারে, তাদের ইন্টারনেট স্পিড তো একই? একই হলেও, আমেরিকান ইউজার আপনার সার্ভারের তুলনামূলক ভাবে কাছে অবস্থান করছেন, তার রিকোয়েষ্ট রাউট হচ্ছে তুলনামূলক ভাবে কম সময়ে। অপরদিকে, রাশিয়ান আছেন বেশ দূরে। তার রিকোয়েষ্ট কয়েকটা রাউটার/গেটওয়ে পেরিয়ে তারপরে সার্ভারে পৌছায়। ফলে পিং এর পরিমান বেড়ে যায়। ফলাফল, প্রচুর পরিমান প্যাকেট লস এবং লোডিং টাইম বেড়ে যাওয়া।

লাইভ উদাহরন দেখাই,

স্পিড টেষ্টঃ লোকেশন ঢাকা
স্পিড টেষ্টঃ লোকেশন ঢাকা

এই ছবিতে দেখুন, আমি ঢাকার একটা সার্ভারে টেষ্ট করেছি, আমার পিং রেট ৬৪ মিলিসেকেন্ড। এবার আসি অন্য কোথাও,

স্পিড টেষ্টঃ লোকেশোন কোলকাতা
স্পিড টেষ্টঃ লোকেশোন কলকাতা

এই ছবিতে দেখুন, পিং রেটের পরিমান বেড়েছে। এবার টেষ্ট করেছি কোলকাতাতে।

স্পিড টেষ্টঃ লোকেশন মায়ারনমার

এবারের লোকেশন মায়ানমার, খেয়াল করুন, পিং রেট ভয়াবহ হারে বেড়েছে। কারন ভারতের সাথে আমাদের সাবমেরিন কেবল ছাড়াও আরও ইন্টার্নাল ছয়টি কেবলের সাহায্যে কমিউনিকেশন রাখা হয়, যার কারনে পিং রেট কিছুটা কম। তবে পরিস্থিতি এবং আবহওয়ার ওপরেও অনেক কিছু ডিপেন্ড করে।

এখন যদি আপনার সাইট টি বাংলাদেশী সার্ভারে হোষ্ট করা হয়, তবে দেশের ভেতরের ইউজাররা অসাধারন স্পিড ভাবে, একই ভাবে একজন আমেরিকান ইউজার এর কাছে সাইটটি স্লো মনে হবে। এখন আপনার যদি একটা পার্সোনাল সাইট থাকে, তাহলে সিডিএন নিয়ে এতোটা চিন্তার কোন মানে নেই। কিন্তু এমন কোন সাইট থাকে যেটার দৈনিক ভিজিটর লক্ষাধিক? তাহলে আপনাকে সি ডি এন নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

সি ডি এন যেটা করে, তারা জিওগ্রাফিক লোকেশন এর ভিত্তিতে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সার্ভার বসিয়ে রাখে। একই ডাটা, প্রতিটা সার্ভারে আছে। জিওগ্রাফিক্যালী যে সার্ভার আপনার কাছে এবং পিং কম, আপনাকে সেখান থেকে ডাটা দেওয়া হবে। ধরুন তাদের একটি সার্ভার আমেরিকাতে, অন্যটি সিঙ্গাপুরে। ফলে যারা আমেরিকাতে আছে, তারা আমেরিকান সার্ভার থেকে ডাটা পাবে, যারা বাংলাদেশে আছে তারা সিংগাপুর থেকে। এর প্রধান কারন সিঙ্গাপুর জিওগ্রাফক্যালী আমাদের কাছে এবং একই সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্কের মধ্যে।

তাই আপনার সাইটে যদি আপনি ম্যাসিভ ইউজার এক্সপেক্ট করেন, তাহলে একটা ভালো মানের সি ডি এন নিয়ে নেওয়াটা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত !

[ ইমেজ অপটিমাইজেশন নিয়ে পরবর্তী পর্ব আসবে খুব তাড়াতাড়ি, আজকে এই পর্যন্তই, নিচে রিসোর্স সেকশন দেওয়া হলো, নজর রাখবেন ]

 

ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন, ভেবে ব্যবহার করছেন তো?

 

ওপরের ছবিটা দেখুন একবার। ছবিটার সাথে আপনি সম্ভবত পরিচিত। আপনার আশে পাশের অনেকেই এমন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করছে। যেখানে কার সাথে সবচেয়ে বেশিবার ম্যাসেজ বিনিময় করেছেন, কিংবা কোন ধরনের ইমোটিকন বেশি ব্যবহার করছেন, কিংবা আপনার সেরা সব ফেসবুক ফ্রেন্ড কারা। ইত্যাদি !

 

ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে মজার। আপনার ফেসবুকের বন্ধুমহলের মধ্যে কার সাথে আপনার যোগাযোগ কতোটুকু, সেটা প্রকাশ করতে পারছেন। এরপর সেটা নিয়ে অনেক কমেন্ট হবে, মজা হবে।

 

 আসুন এবার একটু ধাপে ধাপে এগোই

 

  • এটি আপনার পাবলিক প্রোফাইল এর তথ্যের জন্য অ্যাকসেস চাইছে
  • আপনার ফ্রেন্ডলিষ্ট দেখার জন্য অ্যাকসেস চাইছে
  • আপনার ইমেইল আইডি দেখার জন্য অ্যাকসেস চাইছে 
  • আপনি ইনবক্সের ম্যাসেজ গুলো পড়ার জন্য অ্যাকসেস চাইছে

আপনি অ্যাক্সেস দিলেন। এবার কি ঘটবে? এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশন এর ডিজাইন আর্কিটেকচার হলো, এরা প্রথমে ফেসবুক এর এ পি আই ব্যবহার করে ডাটা সংগ্রহ করে, এবার সেই ডাটা থেকে প্রয়োজনীয় প্রসেসিং করে, এবং সেই প্রসেসিং এর পর রেজাল্ট আপনাকে দেখায়।

 

 

যেমন উপরের অ্যাপ্লিকেশনটির ক্ষেত্রে, এটি আপনার ফেসবুকের সমস্ত ম্যাসেজ পড়বে, সেগুলোতে আপনি কি কি ইমোটিকন ব্যবহার করেছেন, সেটা কাউন্ট করবে, এরপর আপনি যেসব ষ্ট্যাটাস বা পোষ্ট দিয়েছেন, সেগুলোতে কি কি ইমোটিকন ব্যবহার করেছেন, সেটা কাউন্ট করবে, এরপর সেগুলোর ফলাফল ষ্ট্যাটাস হিসাবে আপনার প্রোফাইলে পোষ্ট হবে।

 

 

কিন্তু,

 

আপনার ম্যাসেজগুলো পড়ার পরে, অ্যাপ্লিকেশনটা যদি সেটা নিজের ডাটাবেজে সেভ করে রাখে?

 

আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে ষ্ট্যাটাস দেওয়ার পারমিশন দেওয়া আছে, যদি আপনার অজান্তেই কোন ষ্ট্যাটাস পোষ্ট করে?

 

এবার আপনার জানা দরকার, আপনার দেওয়া এই সকল পারমিশন এর কারনে কি কি ক্ষতি হতে পারে।

 

ইমেইল-মার্কেটিং 

 

ইদানিং টেক ওয়ার্ল্ডে খুব পরিচিত একটা নাম, ইমেইল মার্কেটিং। এর অর্থ হলো, আপনার মেইল আইডিতে কোন নির্দিষ্ট কোম্পানী বা সার্ভিস এর পক্ষ থেকে তাদের অফার, পন্য বা আপডেট জানিয়ে মেইল করা হয়, এবং শতকরা ৯৯% সময়, আপনার অনুমতি না নিয়েই। এবং ৯৫% সময়েই এটা এতো বেশি বিরক্তিকর হয় যে স্প্যামিং এর পর্যায়ে চলে যায়। ইদানিং বাংলাদেশেও কিছু আবুল কোম্পানী শুরু করেছে এই কাজ।

 

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই মেইল পাঠানোর কাজটা কিন্তু সংশ্লিষ্ট কোম্পানী করা না। এটার জন্য আলাদা কোম্পানী আছে, যারা নিয়মিত টাকা পায় এই মেইল গুলো পাঠানোর জন্য। সংশ্লিষ্ট কোম্পানী গুলো, তাদের কাছে নিজেদের অফার, পণ্য বা আপডেট এর একটা বিস্তারিত বিবরন পাঠিয়ে দেয়। এরপর এইসকল কোম্পানী সেই বিবরনকে নিয়ে তাদের কাছে থাকা হাজার হাজার মেইল আইডিতে পাঠিয়ে দেয়।

 

এখানে লাভ হলো, ১০ হাজার মানুষের মধ্যে ১ জনও যদি সেই মেইল দেখে পন্য কেনে, পন্য বিক্রেতা কোম্পানীর লাভ তাতে।

 

কিন্তু সেই মেইল আইডি গুলোতো সংগ্রহ করতে হবে? কিভাবে?

 

নানা ধরনের ফন্দি ফিকির করে এই মেইল আইডি গুলো সংগ্রহ করা হয়।

 

ইভেন আমি একবার দেখেছিলাম, একটা সাইটে দেওয়া হয়েছিলো, অমুক পর্নষ্টারের নতুন ভিডিও ফ্রীতে দেখতে আপনার মেইল আইডি এখানে প্রবেশ করান, প্রথম ১০ হাজার জন ভিডিওটি ফ্রি দেখতে পাবেন। ভিডিও আসা মাত্র আপনাকে মেইল করা জানানো হবে।

 

 

এই ধরনের ফেসবুক অ্যাপও সেম কাজটি করতে পারে। উপরের ছবিতে কি কি পারমিশন লাগে তার একটা লিষ্ট দিয়েছিলাম, খেয়াল করে দেখুন,

  • আপনার ইমেইল আইডি দেখার জন্য অ্যাকসেস চাইছে 

এখানেই হচ্ছে মূল রহস্য। আপনার মেইল আইডিটি দেখার পারমিশন নিয়ে অ্যাপটি তাদের ডাটাবেজ এ সেভ করেও রাখতে পারে। এবং পরে বিশাল একটা লিষ্ট তৈরী করে সেই আইডি গুলো ই-মেইল মার্কেটিং করে এমন কোম্পানীর কাছে চড়া দামে বিক্রিও করতে পারে। এমন অহ-রহ হচ্ছে।

 

আপনার গোপন-তথ্য 

 

ইতিহাসের একটা মজার গল্প শোনাই আপনাদের। ১৯৯৮ সালের দিকের কথা। ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি বা এন এস এ এর নামে এক ব্যাক্তি কোর্টে মামলা করে, সেখানে দাবী করা হয় এন এস এ থেকে তাকে ব্ল্যাক মেইল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আসলে কি হচ্ছে সেটা ভিন্ন কথা। তবে শীর্ষ স্থানীয় এক পত্রিকার গবেষনার বের হয়ে আসে, এন এস এ, আমেরিকায় বসবাস করে এমন অনেক বিদেশী নাগরিকের ফোন ট্যাপ করে রেখেছিলো। এর মধ্যে কাউকে গুরুত্বপুর্ন মনে হলে, তার যাবতীয় টেলিফোনালাপ রেকর্ড করে রাখা হতো। সেখানে ব্লাকমেইল করার মতো কিছু পাওয়া গেলে সেই ব্যাক্তিকে ব্লাকমেইল করে তার দেশ বা প্রতিষ্টান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ন তথ্য সংগ্রহ করা হতো।

 

সাম্প্রতিক কালে স্লোডেন এর ফাঁস করা তথ্য থেকেও এমন অনেক কিছু বের হয়ে এসেছে। ভূমিকা বেশী বড় না করি, কাজের কথায় আসি।

 

টেকনিক্যালী, এই অ্যাপ গুলো আপনার সম্পূর্ন ইনবক্সের অ্যাকসেস পেয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে কাউকে মেইল পাঠাতে না পারলেও, আপনার ফেসবুক আইডি খোলার পর থেকে আজ অবাধি সব মেইল তারা পড়তে পারছে।

 

যাদের আইডীর বয়স অনেকদিন, একবার ভাবুন তো, আপনার ফেসবুক আইডিতে কি পরিমান সেনসিটিভ ইনফরমেশন থাকতে পারে? নিজের সম্পর্কে, বা অন্য কারও সম্পর্কে? কিন্তু আপনার প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে আপনি ফেসবুকে কথা বলেন। আপনাদের ব্যাক্তিগত অনেক তথ্যই সেখানে আছে।

 

এখন যদি অ্যাপ্লিকেশটি সেই সকল তথ্য সেভ করে রাখে নিজের ডাটাবেজে, তার মানে অ্যাপ্লিকেশনে অ্যাক্সেস দেওয়ার মূহূর্ত পর্যন্ত আপনার যাবতীয় ফেসবুক ম্যাসেজ অ্যাপ্লিকেশনটি তথা তার ডেভেলপার এর হাতে চলে গেলো। এবং সেখানে থাকা সেই সকল সেনসিটিভ বা ব্যাক্তিগত তথ্য দিয়ে, সে আপনাকে চাইলেই ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। অসম্ভব কিছু না। আপনি টেরই পাবেন না, মজার ছলে পারমিশন দেওয়া একটা অ্যাপ আপনার জীবনে এতো বড় কালো অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

 

এখানেই শেষ নয়, ইনবক্সে আমরা অনেক রকম ছবি শেয়ার করি। খুব বেশী ব্যাক্তিগত ছবি থাকতেই পারে। আপনি আপনার স্বামী বা প্রেমিকের সাথে হয়তো শেয়ার করেছেন। সেই অ্যাপ্লিকেশনের বদৌলতে সেই ছবি গুলোর লিংক এখন অ্যাপ্লিকেশনের ডেভেলপার এর হাতে।

 

আপনার ব্ল্যাকমেইল করার জন্য, কায়দামতো একটা সিঙ্গেল ছবিই যথেষ্ট।

 

আপনার ছবি 

 

ফেসবুকে আমরা প্রতিদিন শত শত ছবি আপলোড দেই। এর মধ্যে কিছু ছবির প্রাইভেসী দেওয়া থাকে। যেমন কিছু ছবি থাকে শুধু নির্দিষ্ট একটা গ্রুপ করা আছে ফ্রেন্ডলিষ্টে, তাদের জন্য। কিছু ছবি থাকে অনলী মি করা, কিছু ছবি থাকে শুধু একজনকে দেখার সুযোগ করে দেওয়া আছে। হতেই পারে।

 

কিছু অ্যাপ্লিকেশন আছে, যেগুলো আপনার সব ছবি রিড করার পারমিশন চাইবে, আপনি মজার অ্যাপ্লিকেশন এর মজা দেখার জন্য দিয়ে দিলেন। ভালো করে যাচাই বাছাই না করেই। এবং আপনি যদি ঠিকমতো দেখে না থাকেন আপনি কিসের পারমিশন দিচ্ছেন, তাহলে আপনার সব ছবি চলে গেলো সেই অ্যাপ্লিকেশনের হাতে। প্রাইভেসী দেওয়া থাকার কারনে ছবির অ্যালবাম লিংক ধরে দেখা সম্ভব নয়, কিন্তু ডাইরেক্ট ফাইল লিংক ধরে ছবিটি দেখা সম্ভব, আর অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার যদি আপনার ছবি পেতেই চায়, সে সেটাই করবে।

 

এখানেও একই অবস্থা। আপনার একটা ছবি আপনার জীবনের অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।

 

অর্থনৈতিক তথ্য 

 

ব্যাপারটা নতুন নয়, এর আগেও বহু হ্যাকার এমন অ্যাপ্লিকেশন বানিয়েছিলো, সেগুলোরও কাজ ছিল ইনবক্সের ম্যাসেজ নিয়ে। সেখান থেকে তারা ফিল্টার করে অসংখ্য মানুষের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে।

 

আমরা ফেসবুকে আপনজন, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মীদের সাথে ক্রেডিট কার্ড, পেপাল, কিংবা কোন মেইল বা সার্ভিস অ্যাকাউন্ট এর তথ্য শেয়ার করি, মেইল আইডি – পাসওয়ার্ড ইত্যাদি। আপনার ম্যাসেজ পুরোটাই ডেভেলপার এর হাতে থাকার কারনে, সে চাইলেই এই তথ্য গুলো ব্যবহার করতে পারবে। আপনার অজ্ঞাতেই।

 

করনীয়

 

বহুজনকে বহুবার বলেছি, আবারও বলি,

 

আজেবাজে অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করবেন না। যেসব অ্যাপ্লিকেশন এর সোর্স সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়, শুধু সেগুলোই ব্যবহার করুন। অফকোর্স যদি আপনি ফেক আইডি না হয়ে থাকেন।

 

এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশন যেগুলো ব্যবহার করেছেন, সেগুলোর পারমিশন রিভোক করে দিন, মানে বাতিল করে দিন।

 

https://www.facebook.com/settings?tab=applications

 

এখানে গেলে আপনার ব্যবহৃত সব অ্যাপ্লিকেশন এর লিষ্ট পাবেন। সেখান থেকে আজেবাজে এবং ভরসা করা যায় না এমন অ্যাপ্লিকেশন গুলো রিমুভ করে দিন। কারন এখনও যেহেতু সেই সকল অ্যাপ্লিকেশন এর কাছে আপনার পারমিশন আছে, তারা চাইলে এখনোও আপনার ডাটা রিড করতে পারবে। এখন রিমুভ করে দিলে, অন্তত আগত ভবিষৎ এর ম্যাসেজ, ছবি গুলো রক্ষা করতে পারবেন ।

 

এবং আগত ভবিষৎ এ এমন কোন অ্যাপ্লিকেশনে অ্যাক্সেস দেওয়ার সময় সতর্ক থাকবে। আপনার ভালোর জন্যই।

 

[ তাদেরকেই ট্যাগ করলাম, যারা এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেছেন না এই ব্যাপারটা নিয়ে নিশ্চিত হতে চাইছেন না আরও কিছু যোগ করতে চাইছেন ]

 

যারা ফেসবুকের লগিন এ পি আই বা পারমিশন গুলো সম্পর্কে আরও ডিটেইলসে জানতে চান, তাদের জন্য গুরু সারিম খানের আদেশে, নিম্নোক্ত লিংক সংযোজন !

 

https://developers.facebook.com/docs/reference/login

হাত কাটাকাটি ও ফেসবুক

ফেসবুক বাসী ভাই ও বোনেরা, আপনারা আপনার গার্লফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ডকে সরি বলবেন, কোন সমস্যা না, সেটার জন্য ফেসবুকে পাবলিক পোষ্ট কেন? আপনি হাত কাটবেন, সেটার ছবি ফেসবুকে কেন? কিছু কিছু বিষয় একান্তই নিজের করে রাখতে হয়। আর সে জন্য বুদ্ধিমান মার্ক জুকারবার্গ ফেসবুক ম্যাসেজ রেখেছেন আপনার জন্য। সেটার ব্যবহার করতে কোন টাকা দিতে হয় না, কোন ঝামেলা পোহাতে হয় না।

আপনার প্রেমিক প্রেমিকারে ইনবক্সে ম্যাসজে করুন আপনি ব্যাপক সরি [ শুদ্ধ বানানে ] । চাইলে কাটা হাতের ছবিও দিতে পারেন। কিন্তু সে জন্য পাবলিক পোষ্টের দরকার কি? পাবলিকের সিম্প্যাথি রাজনীতিতে কাজে লাগে, ব্যবসায় কাজে লাগে। প্রেম ভালোবাসায় না।

আর ষ্ট্যাটাসটা আমি মিন করে দিলাম, অনেক কয়েকজনকে। ইচ্ছে ছিলো ট্যাগ করে দেওয়ার। কিন্তু দিলাম না, পাবলিকলী তাদের অপমান করতে চাইনা। কিন্তু ভালোবাসা শুধু দুইটি মানূষের একান্ত নিজের ব্যাপার। নিজেদের ছবি আপলোড করুন, ভালোবেসে ষ্ট্যাটাস দিন। মানুষ তাতে আপনাদের দোয়া দেবে, আপনার অ্যাপ্রিশিয়েট করবে। আপনাদের দেখে ভালোবাসতে ইন্সপায়ার হবে, আরও হয়তো কয়েকটা সুন্দর জীবন শুরু হবে। কিন্তু, নিজেদের মান অভিমান একান্ত নিজের ব্যাপার। প্রেমিক বা প্রেমিকাকে গালি দিয়ে ষ্ট্যাটাস দিয়ে বা সরি বলে হাত কাটার ছবি আপলোড দেওয়াটা খুব লেম একটা ব্যাপার। এতে আপনারে প্রেমিকা বা প্রেমিক নিজেই লজ্জিত হবে, পাবলিকের কাছে তার মান সম্মানটা রাখুন।

ভালোবাসা মানে রাত জেগে কথা বলা বা কোন ভালো রেষ্টুরেন্টে খেতে যাওয়া না। ভালোবাসা মানে অনেক কিছু। ভালোবাসাকে সম্মান করতে না জানলে, আপনার ভালোবাসার কোন অধিকার নেই। সেলিব্রেটি হওয়ার জন্য নিজের ভালোবাসাকে ব্যবহার করাটা একটা মেয়েকে ধর্ষন করার মতোই অপরাধ।