বেশ্যা

রাস্তার এপাশে দাঁড়িয়ে ভাবছে তমাল, ঐপাশে যাবে কিনা। ঐপাশের এলাকাটা, সহজ বাংলায় যাকে বলে বেশ্যাখানা, শুদ্ধ বাংলায় পতিতালয়। তমাল এর আজ মন ভালো নেই, কিন্তু পতিতালয়ে যাওয়ার পেছনে কারন সেটা না। এইখানে যে মেয়েগুলো থাকে, তাদের জীবনটা তমালের কাছে একটা রহস্য মনে হয়। এই মেয়েগুলো, নিজের শরীর ঘন্টার জন্য তুলে দিচ্ছে কারো হাতে, আজ এর হাতে, কাল ওর হাতে। প্রতিদিন নতুন নতুন মানূষ, নতুন নতুন অত্যাচার। এরপর রংচঙ্গে সাজ দিয়ে আবার দাঁড়িয়ে থাকে নতুন খদ্দরের আশায়। এদের মনের মাঝে কি চলে? খুব জানতে ইচ্ছে করে তমালের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়না, কারন সমাজের চোখে সে ভদ্রলোকের ছেলে। সে চার দেওয়ালের মাঝে কোন মেয়ের কাছে নিজের শরীরের চাহিদা পুরন করতে পারে, কেউ কিছুই বলবে না। কিন্তু পতিতালয় নামের এই জায়গাটাতে যখন সেই একই চাহিদা পয়সা দিয়ে পূরন করতে যাবে, তখন সেটা সমাজের চোখে অনেক বড় অপরাধ। একই দৃশ্য যখন সাজানো ডিষ্টেম্পার করা ঘরের মাঝে চিত্রায়িত হচ্ছে, তখন শারীরিক ক্ষুধা, আর সেটাই যখন বেশ্যালয় নামের প্রতিষ্টানে প্রাতিষ্টানিক ভাবে চিত্রায়ত হচ্ছে, তখন সেটা মহা সামাজিক অপরাধ।

আজ আর দ্বিধা দন্দে ভুগছে না তমাল। সোজা গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলো। দুই পাশে সারি সারি চাটাই দিয়ে তৈরী ঘর। কিছু ঘরের সামনে কড়া রঙ এর সাজ দিয়ে কতোগুলো মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু ঘরের দরজা বন্ধ। দুইপাশে তাকিয়ে হাঁটতে থাকলো তমাল। সে আসলে জানে না সে কি চায়। হটাৎ একটা লুঙ্গি পড়া লোক এগিয়ে এলো। তার কথা শুনে বুঝলো ভদ্র ভাষায় সে একজন এজেন্ট, বাংলায় মাগীর দালাল। তার কথার কিছুই তমালের কানে যাচ্ছে না, সে কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে আছে। লোকটা তার কাছে টাকা চাইলো, সে পকেট থেকে টাকা বের করে দিলো। লোকটা তাকে টেনে একটা ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলো। হাতের মধ্যে কিছু একটা গুঁজে দিয়ে গেলো। দুইটা প্যাকেট। একটাতে রয়েছে জন্মনিরোধক, অন্যটা যৌন উত্তেজক এক ধরনের ঔষধ। ঘরের এক কোনে ছুড়ে ফেলে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো তমাল। চারপাশে জীবনের অনেক চিহ্ন ছিটিয়ে রয়েছে। একটা আলনায় কিছু জামা কাপড়। এক কোনে একটা ছোট টেবিল, তার ওপরে একটা আয়না, সস্তা দামের কিছু কসমেটিকস। খুব কড়া রঙ এর লিপিষ্টিক, চুলে বাঁধা ফিতে। এসব দেখতে দেখতেই ঘরের দরজা খুলে গেলো। একটা মেয়ে ঘরে ঢুকলো। দেখেই বুঝলো তমাল, একেই টাকা দিয়ে কিছুক্ষনের জন্য অর্জন করে নিয়েছে সে।

মেয়েটাকে দেখে বয়স আন্দাজ করার উপায় নেই। চেহারা আর চলাফেরা দেখে মনে হয় ১৪-১৫’র বেশি হবে না। কিন্তু কথা শুনে মনে হয় জীবনের অনেক বড় একটা অংশ অনেক কম বয়সেই দেখে ফেলেছে সে। তমাল এর দিকে এগিয়ে এলো মেয়েটা ধিরে পায়ে। সে জানে এই লোকটার হাতে তার নিজেকে সঁপে দিয়ে হবে কিছুক্ষনের জন্য। তবে তমাল তাকে এড়িয়ে দরজার দিকে যাচ্ছিলো। পেছন থেকে মেয়েটা তার হাত টেনে ধরলো।
-> চলে যাচ্ছেন যে?

মেয়েটার কথা শুনেই তমাল বুঝলো, মেয়েটা পড়ালেখা করেছে। শুদ্ধ ভাবে বাংলা বলছে। ভদ্র ঘরের মেয়ে। সেই সাথেই একগাদা প্রশ্ন উঁকি দিলো তমাল এর মনে।

~ আমি চলে যাচ্ছি।
-> যাবেন না প্লিজ। আপনি এখনি বের হয়ে গেলে মনসুর আমাকে টাকা দেবে না।
~ মনসুর?
-> যে আপনার কাছ থেকে টাকা নিলো। সে এখানকার দালাল। আপনি বের হয়ে যাওয়ার অর্থ আপনাকে আমি ঠিকমতো আনন্দ দিতে পারিনি। এরপর সে আমাকে আর ভালো কোন কাষ্টোমার এনে দেবে না। প্লিজ, চলে যাবেন না। আপনি টাকা দিয়ে আমাকে কিনে নিয়েছেন এক ঘন্টার জন্য। আপনার চাহিদা পূরন করে যান।
~ আমার কোন চাহিদা নেই তোমার কাছে।
-> তাহলে এখানে কেন আপনি? এটা ভালো যায়গা নয়। এখানে যারা আসে, তারা চাহিদা পূরনের জন্যই আসে।
~ আমি তো বললাম, আমার কোন চাহিদা নেই।
-> নেই ঠিকাছে। কিছুক্ষন বসুন। এরপর বের হয়ে যাবেন।

এগিয়ে গিয়ে বিছানার এক কোনে বসলো তমাল। এতোক্ষনে মেয়েটাকে ভালো করে লক্ষ করলো তমাল। চেহারায় একটা লাবন্য আছে, বা বলা চলে যেটুকু বাকি আছে। কোন শিক্ষিত ফ্যামেলীর মেয়ে বোঝাই যাচ্ছে।
~ নাম কি তোমার?
-> কুলসুম।
~ আমি সর্বজ্ঞানী না হলেও এতোটুকু নিশ্চিত বলতে পারি, কুলসুম তোমার আসল নাম নয়।
-> না নয়, তবে সেটা গুরুত্বপূর্ন নয়। গুরুত্বপূর্ন হলো, আমি কুলসুম নামেই পরিচিত এবং আমি একজন বেশ্যা !
~ তোমার কথা শুনে বোঝা যাচ্ছে তুমি পড়ালেখা করেছ। এখানে কিভাবে এলে?
-> দেখুন, আপনি টাকা দিয়েছেন আমার দেহের জন্য। আমি কে কি, সেটার সাথে আপনার কোন দরকার নেই।
~ আমি টাকা দিয়েছি তোমার জন্য, মানে তোমাকে আমি এক ঘন্টার জন্য কিনে নিয়েছি। আমি তোমার দেহ দিয়ে স্বাদ মেটাবো নাকি গালগপ্পো করবো, সেটা আমার ব্যাপার।
-> তাতো বটেই। আমি তো একজন বেশ্যা, আমাকে শুতে বললে শুতে হবে, গল্প করতে বললে গল্প করতে হবে।
~ এভাবে না নিলেও চলে ব্যাপারটা। তুমিও একজন মানুষ।
-> হয় আপনি অনেক বড় একজন গাধা, নয়তো বিশাল বড় মিথ্যেবাদী। মানুষত্য টাইপের জিনিস এই বেশ্যালয়ের দেওয়ালের বাহিরের জিনিস। এর ভেতরে শুধু টাকা, দেহ আর মৃত মানূষের কারবার।

~ সত্যিকথা বলো, তুমি কে?
-> আমি? আমার আসল নাম রেহানা। চট্টগ্রামের একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী ছিলাম। একদিন প্রাইভেট শেষ করে বাসায় ফেরার সময় কয়েকজন অতিরিক্ত ভালো মানব সন্তান আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর তিন দিন রাত ধরে তারা আমার অনেক আদরযত্ন করে। বেশি আদরযত্নের ঠেলায় মরতে বসেছিলাম। মেডিকেল এর সামনে ফেলে যায়। তাদের আদর যত্নে গায়ে কাপড় ছিলো না। তাই এক ডাক্তার চেকাপ এর সময় আবার খানিকটা আদর যত্ন করলেন। বললেন কাউকে যাতে তার আদরের কথা না বলি। বললে সে আমার স্যালাইন এ বিষ মিশিয়ে দেবে। বাবা মা আসলেন অনেক পরে খবর পেয়ে। এর মধ্যে অনেকেই আদর যত্ন করার চেষ্টা করলেন, পারেনি। কোর্টে কেস হলো, প্রতিদিন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আমাকে বর্ননা দিয়ে হতো সেই তিন রাতের। প্রতিপক্ষের আইনজীবি আমাকে প্রশ্ন দিয়ে খোলা আদালতে ধর্ষন করতেন। আমি শুধু জবাব দিয়ে যেতাম। আমাকে জবাব দিতে হতো, সেই তিন রাত আমি উপভোগ করেছিলাম কিনা? আমার অনেক কথার পরেও সব শেষে প্রতিপক্ষের আইনজীবি প্রমান করার চেষ্টা করলেন, আমি আসলে খারাপ ড্রেস পড়ে ছিলাম। তাই সেই সব ভদ্র মানব সন্তান একটু সমাজ সেবা করেছে।

~ তারপর?
-> এরপর আর কি? এই দেশে আপনি দেওয়ালের পেছনে দুইশোজনের সাথে শুলেও আপনি নিজেকে সতি প্রমান করতে পারবেন, খোলা ময়দানে কেউ আপনার ওড়না টান দিলে পরের দিন আপনি আড়ালে আবডালে মাগী শব্দটা শুনতে পাবেন। সবাই আপনার রেট জিজ্ঞেস করবে। রাতে ফ্রী আছেন কিনা জিজ্ঞেস করবে। মামলাটা কোর্টে এখনো ঝুলে আছে। বাসায় এসে অনেকেই আদর যত্ন করার চেষ্টা করলো। প্রতিবেশীরা বললো আমার জন্য তাদের উঠতি বয়সের ভদ্র ছেলেরা খারাপ হয়ে যেতে পারে। রাগে দুঃখে পালিয়ে এলাম। পড়লাম মনসুর এর হাতে। এখানে এনে তুলে দিলো। শেষ পর্যন্ত মাগীই হয়ে গেলাম। এখন কাউকে রেট বলতে হয়না। ঐসব মনসুর সামলায়।

~ এখান থেকে চলে যেতে পারতে? থেকে গেলে কেন?
-> আপনি অনেক বড় বোকা। আপনি সেটা জানেন। বেশ্যালয় এর মেয়েদের সমাজে কোন দাম নেই। আপনি সমাজের বড় লোকদের সাথে শুলে আপনাকে সোসাইটি গার্ল বলবে। ছোটলোকদের সাথে শুলে আপনি বেশ্যা হয়ে যাবেন জনাব। বেশ্যাদের বুকে হাত দিয়ে সবাই চায়, কিন্তু বুকে আগলে রাখতে কেউই চায় না।

~ এখান থেকে যেতে চাও?
-> কে নিয়ে যাবে? আপনি?
~ যদি বলি আমি?
-> বেশ্যাদের কপাল এতোতা ভালো হয়না জনাব। আমার জীবনের গল্প শুনে এখন আপনার হয়তো খারাপ লাগছে, কাল রাতে আমার সাথে শোয়ার সময় ভাববেন, এ তো একটা বেশ্যা। পরশু যখন কেউ আপনাকে বলবেন একজন বেশ্যাকে ঘরে এনে রেখেছেন কেন, তখন ঠিকই জুতা মেরে তাড়িয়ে দেবেন। কিংবা যদিও বা সত্যিই আপনি ভালো মনে আমাকে বের করে নিয়ে যান এখান থেকে, আমি আমার নিজেকে চিনি। আমি শরীর বিক্রি করি। এই শরীরটা এতো বেশি বার বিক্রি করেছি যে, এর ওপর আমার নিজের নিয়ন্ত্রন নেই আর। আমি একটা রোবট এখন।
~ আমার সাথে যাবে?
-> না, আপনার সাথে গেলে যদি আমার সামনে অনেক সুন্দর দিন অপেক্ষা করে, তবুও যাবো না। কারন আপনাকে ঠকাতে তো পারবো না। বাজারের মেয়ে হতে পারি, কিন্তু সবাইকে পাওনাটা দিতে জানি। আপনার পাওনা আপনাকে দিতে পারবো না আমি।

আর কোন প্রশ্ন করলো না তমাল। অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে। গেট দিয়ে বের হয়ে গেলো তমাল। একতা সিগারেট ধরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভাবতে লাগলো তমাল, সমাজের চেয়ে বড় পতিতালয় আর কোথায় আছে?

[ এই কাহিনীর ওপর একটা শর্ট ফিল্ম করার ইচ্ছে ছিলো আমার। চাপা একটা ইচ্ছা। ডায়ালগ গুলো অনেক ইরোটিক। সুশীল মিডিয়ার আড়ালে এটা কোনদিনও আলোর মুখ দেখবে না জানি। আর ফিল্ম মেকিং আমার লাইন নয়। তবুও এই ইচ্ছাটা মনের মাঝে অনেকদিন থেকেই লালন করি। সুযোগ, সামর্থের অভাবে কোনদিন করা হবে কিনা জানিনা। তবে জীবনে একবার চেষ্টা করবো এটা বানানোর। পতিতালয়ের বেশ্যাদের পাশাপাশি সামাজিক বেশ্যাদের চেহারাটা দেখা এবং দেখানোটা দরকার ]

 

https://www.facebook.com/theoritro/posts/10203682022677616?ref=notif&notif_t=like

ওয়ার্ল্ডকাপ টি টোয়েন্টি সেলিব্রেশন কনসার্ট // হিপোক্রেসি

সব ধরনের হিপোক্রেসির একটা লিমিট আছে ! ভালো ধরনের লিমিট আছে । আজকে AKON আর এ আর রহমান এর কনসার্ট ছিলো। চ্যানেল নাইন লাইভ টেলিকাষ্ট করছে ! আইয়ুব বাচ্চু যখন তালি নিয়ে একটা খোঁচা দিলো পোলাপাইনরে, তখনই হুট করেই সবার নাগরিকত্ব ফকফকা হয়ে গেলো, দেশপ্রেম জেগে উঠলো, রক্তে অ্যাড্রোনালিন এর সঞ্চালনের পরিমান বেড়ে গেলো, কীবোর্ডে আর কীপ্যাডে আর টাচস্ক্রিনে জাতি ঝাঁপায়ে পড়লো। কীবোর্ড ভেঙ্গে তারা প্রমান করবে, আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের দালাল, দেশীয় শিল্পীদের দাম না দিয়ে ভারতের কাছে দেশ বেচে দিলো !

থামেন, ব্রেক মারেন। দেশীয় শিল্পীদের দাম দেয় নাই সরকার? ওকে, মেনে নিলাম। আপনি দিয়েছেন তো?

আপনার ফোন + কম্পিউটার খুঁজলে এখন ৫০০’র ওপরে গান পাওয়া যাবে, যা আইনগত ভাবে আপনার সম্পত্তি না। সহজ বাংলায় বললে, আপনি কপিরাইট আইন ভঙ্গ করে, শিল্পীর পেটে লাথি মেরে, মিউজিক প্রডাকশোন হাউজের লাল বাত্তি জ্বলিয়ে গানটা ফ্রী ডাউনলোড করে শুনছেন। ব্রুটুথ দিয়ে, ডাটা কেবল দিয়ে, কার্ড এক্সচেঞ্জ করে শেয়ার করেছেন আরও ২০-৩০ জনের সাথে ! তারাও করেছে আরও ২০-৩০ জনের সাথে ! ফলে কি হচ্ছে? আপনাদের এই আপনি +২০ +২০= ৪০ এর বেশী লোকজনের মধ্যে যদি ৪ জন ও গানটা কিনে শুনতো, সেটা কিন্তু দিনের শেষ শিল্পীর কাছেই যেতো, সে আরও কাজ করার উৎসাহ পেতো। কিন্তু পাচ্ছে না, তাই নিজের অ্যালবাম বের করা বাদ দিয়ে সবাই প্লেব্যাক করছে, যারা সঙ্গীত সাধনা করে সত্যিকার অর্থে, তাদের অনেকে চিত্রপট থেকে সরে গিয়ে নিজের জগতে গুটিয়ে যাচ্ছে !

আমিও গান ডাউনলোড করে শুনি, এবং ঠিক একই কারনে, আমি অন্য কাউকে দোষ দেইনা আমাদের মিউজিক ইন্ডাষ্ট্রি ধ্বংস করার জন্য। এখন যদি আপনি কিছু করতে না পারেন, অন্তত দোষ দেওয়া বন্ধ করেন। শিল্পী দের পেটে লাথি সবচেয়ে বেশী আমরাই মেরেছি, চোরের মার বড় গলা মানায় না !

লাফ দিয়েন না, আরও আছে। সরকার ভারতের দালাল? আপনি অন্ধ নাকি?

কনসার্ট টা কিসের ছিলো? কনসার্টের অ্যাডে কি ছিলো? ঐখানে কি লেখা ছিলো এ আর রহমান বাংলা শিখে এসে বাংলায় গান করছেন? বলা ছিলো, অ্যাকন I wanna **** you এর বদলে আমি তোমাকে *** চাই বলবে গানের সময়? এ আর রহমান কে, অ্যাকন কে, আপনি জানেন এবং জেনেই সেখানে গেছেন বা টিভির সামনে বসেছেন । যদি এতোই অ্যালার্জি থাকে, টিভির সামনে বসছেন কেন? যারা ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনে গেছে সেখানে, তারা এ আর রহমান আর অ্যাকন রে দেখার জন্যই গেছে । তারা জেনে শুনেই টিকিট কাটছে। এ আর রহমান এসে বাংলায় কাওয়ালী গাইবে, এইটা নিশ্চয়ই আশা করেন নাই? তাহলে এখন আবার এসে জাবর কাটেন কেন? আপনি জানতেন আপনি কি পেতে যাচ্ছেন, আপনি জানতেন আপনি কি শুনতে যাচ্ছেন, কি দেখতে যাচ্ছেন, এখন দেখা শোনা পাওয়া শেষে এসে কান্নাকাটি করার মানে কি?

কনসার্ট টা হয়েছেই অ্যাকন আর এ আর রহমানকে নিয়ে। প্রতিটা অ্যাড, ব্যানার, প্রোমোতে তাই ছিলো। এখানে আমাদের দেশী শিল্পীদের মূল্যায়ন নিয়ে অনেক পানি গড়িয়েছে দেখলাম, তবে সত্যিটা হলো, আমরা নিজেরাই যাদের মূল্যায়ন করিনি, অন্যরাও তাদের মূল্যায়ন করবে, এই আশা করাটা কি আসলেই ছাগলামী হয়ে গেলো না? যদি বুদ্ধি থাকে, এই বিশাল লেখার মর্মার্থ এতোক্ষনে বুঝে যাওয়ার কথা আপনার।

এবং, আমি নিজেও দেখিনি কনসার্ট টা, কারন আমার ভালো লাগেনি। একই সাথে আমার ব্যার্থতা এবং আমাদের নির্ভরশীলতার কারনেই আমি দেখিনি ! কিন্তু পরে যখন দেখলাম, যারা জেনে শুনে দেখতে গেছে, তারা পরে এসে মায়া কান্না কাঁদছে, তখন মেজাজ ক্যামনে ঠিক থাকে? বিয়ে করতে গেছ, এখন তুমি যদি কও আমার বউয়ের সাথে বাচ্চাও লাগবে, তাইলে ক্যামনে কি হবে?

মাইলসের ব্যাপারে কিছু বলার নাই । আইয়ুব বাচ্চু অনেক বড় শিল্পী, কিন্তু এতোটা বোকা উনি নন যে একটা প্লানড শিল্ডিউলড শোতে উনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে মাইলসকে ষ্টেজে আসতে দেন নাই। আমি নিজের চোখেই মাইলস এবং এল আর বি কে এক সাথে পারফর্ম করতে দেখেছি অতীতে!

পুনশ্চঃ এটা একটা সেলিব্রেশন কনসার্ট ছিল, উদ্বোধনী অনুষ্টান না। টিকিট আগে চোখে ভাল করে দেখেন !