মৃত ভালোবাসা

যদি কান্না গুলো রাতের নিঃশব্দ গল্প হতো, তবে জীবনের মাঝে থাকতো আরও অনেক গুলো নির্ঘুম রাতের স্মৃতিকথা। মাঝের কয়েকটি নিসঙ্গ ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক, আর হারিয়ে যাওয়া এক অচেনা মেয়ের গল্প। ঘামে ভিজে যাওয়া বালিশের মাঝে লুকিয়ে থাকা অনেক কষ্টের ইতিহাস। স্বপ্ন, বিলাসিতা, যখন জীবনের দুইটি শব্দের একই মানে হয়ে দাঁড়ায়, তখন বুঝে যেতে হয়, চলে যাওয়ার এইতো সময়। এইতো নিঃশব্দে সব ছেড়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানোর সময়। যার জীবনের অভিধানে চাওয়া পাওয়া সব সময় কষ্টের আরেক নাম, তার সব টুকু নিংড়ে ভালোবাসার অধিকার নেই, থাকে না। একটা দিন সে রাস্তায় ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা লাশই হোক, আর কফিনের নিচে চাপা পড়া একটা প্রানহীন শবদেহই হোক না কেন, জীবন তাকে সব সময় খুন করে, তার তাজা রক্তের দাম ছাপার অক্ষরের এক বিন্দু কালির সমান নয়, তাই মৃত প্রেমিক সব সময় খবরের কাগজের ভেতরের কোন এক ছোট্ট অংশের মাঝে লুকিয়ে থাকে কয়েক লাইনের বিনিময়ে।

 

সেই লাইন গুলো বলেনা তার হারিয়ে যাওয়া শৈশবের কথা, বলেনা ভেঙ্গে যাওয়া স্বপ্নের কথা। বলেনা প্রেমিকার শেষ হাসির কথা, বলেনা এক গুচ্ছ মৃত গোলাপের কথা। কিংবা পুরনো হয়ে যাওয়া বিবর্ন চিঠির কথা বলে না। আরও বলে না একটা কানের দুলের কথা, সযতনে গুছিয়ে রাখা সেই কানের দুলটার কথা, প্রেমিকার ফেলে যাওয়া শেষ স্মৃতির কথা। সেই লাইন গুলো বলে একটা নিথর দেহের কথা, বলে একজন মৃত মানূষের কথা। সে আজ কারও প্রেমিক নয়, আজ কারও ভালোবাসা নেওয়ার ক্ষমতা তার নেই, নেই কাউকে ভালোবাসার ক্ষমতা। আজ শুধু লাশকাটা ঘরে পড়ে থাকা নাম ট্যাগহীন একটা লাশ সে, প্রেমিকার ছুড়ে ফেলে দেওয়া মৃত ভালোবাসার এক মাত্র সাক্ষী।